আলিফ হত্যা মামলায় জামিন পাননি চিন্ময় দাস

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
  • ৫ বার
জামিন পাননি চিন্ময় দাস

প্রকাশ: ১০ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রামে আলোচিত আইনজীবী Saiful Islam Alif হত্যা মামলায় বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র Chinmoy Krishna Das Brahmachari-কে জামিন দেননি হাইকোর্ট। তবে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অপর চার মামলায় জামিন বিষয়ে আদেশ আগামী সোমবার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আদালত।

রোববার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালত কক্ষে শুনানি ঘিরে আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।

আদালত সূত্র জানায়, হত্যা মামলাটির গুরুত্ব এবং ঘটনার সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আদালত এ পর্যায়ে জামিন মঞ্জুর করেননি। অন্যদিকে বাকি চার মামলার বিষয়ে বিস্তারিত শুনানি শেষে আদালত সোমবার আদেশ ঘোষণা করবেন।

এর আগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর চিন্ময় দাসের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পাঁচ মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। পরে গত বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে রায়ের জন্য ১০ মে দিন নির্ধারণ করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গত বছরের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পরই তাকে নতুন করে আরও পাঁচ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকেই তার আইনি লড়াই নতুন মোড় নেয়।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর। ওইদিন চট্টগ্রামের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান কোতোয়ালি থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগে জাতীয় পতাকা অবমাননার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

এরপর ওই বছরের ২৫ নভেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সেদিন আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চিন্ময় দাসের অনুসারীরা তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং তাকে কারাগারে নেওয়ার পথে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং উত্তেজনার মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও প্রাণ রক্ষা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। আইনজীবী মহল, রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে। পরে নিহত আইনজীবীর বাবা হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে আরও কয়েকটি মামলা করা হয়।

প্রসিকিউশন আদালতে দাবি করেছে, আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত সহিংসতার পেছনে পরিকল্পিত উসকানি ছিল এবং ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্তদের সমর্থকদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, চিন্ময় দাসকে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কারণে টার্গেট করা হয়েছে এবং তাকে অন্যায়ভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ইস্যু ঘিরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় এই মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্নে মামলাটি নানা আলোচনা জন্ম দিয়েছে।

আইনবিশ্লেষকদের মতে, হাইকোর্টের আজকের সিদ্ধান্ত মামলার গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার প্রতিফলন। আদালত সরাসরি জামিন না দিয়ে মামলার নথিপত্র ও অভিযোগের গভীরতা বিবেচনায় রেখেছেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে আগামী সোমবার বাকি চার মামলায় আদালতের সিদ্ধান্ত কী হয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের। কারণ সেই আদেশ চিন্ময় দাসের পরবর্তী আইনি অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত