দুই হত্যা মামলায় জামিন পেলেন আসাদুজ্জামান নূর

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
  • ৬ বার

প্রকাশ: ১০ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর মিরপুর ও রমনা থানায় দায়ের হওয়া দুটি হত্যা মামলায় সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব Asaduzzaman Noor-কে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, মামলাগুলোতে জামিন চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দেন। শুনানিতে আসাদুজ্জামান নূরের পক্ষে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শায়লা শারমিন এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আলামিন।

মামলা দুটির তদন্ত ও অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক এবং আইন অঙ্গনে আলোচনা চলছিল। আদালতে আসামিপক্ষ দাবি করে, সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। একইসঙ্গে তার বয়স, সামাজিক অবস্থান এবং তদন্তে সহযোগিতার বিষয়টিও আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ শুনানিতে জামিনের বিরোধিতা করে বলে, মামলাগুলো গুরুতর অপরাধসংক্রান্ত এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বার্থে সতর্কতা প্রয়োজন। তবে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর বেইলি রোড এলাকা থেকে পুলিশ আসাদুজ্জামান নূরকে গ্রেপ্তার করে। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়। গ্রেপ্তারের পর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থাকা আসাদুজ্জামান নূর নাটক, টেলিভিশন এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে সংসদ সদস্য এবং সংস্কৃতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সাবেক সরকারের একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দায়ের হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আন্দোলন দমন এবং সহিংসতার অভিযোগ ঘিরে এসব মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আসাদুজ্জামান নূরের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ আনা হয়।

আইনবিশ্লেষকদের মতে, হাইকোর্টের এই জামিন আদেশ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়। বরং এটি বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি ধাপ। মামলার তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং পরবর্তী আদালতীয় কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ আইনি অবস্থান।

এদিকে আদালতের আদেশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে নিয়মতান্ত্রিক বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ বলছেন, উচ্চ আদালতের জামিন আদেশ দেশের বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতার প্রতিফলন।

বর্তমানে মামলাগুলোর পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নজর রয়েছে। আদালতের এই আদেশের মাধ্যমে সাবেক এই সংস্কৃতিমন্ত্রীর আইনি লড়াইয়ের নতুন অধ্যায় শুরু হলো বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত