শিবির আবারও গুপ্ত হতে চায়: রাশেদ খাঁন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
  • ৫ বার
শিবির আবারও গুপ্ত হতে চায়

প্রকাশ: ১০ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা Rashed Khan মন্তব্য করেছেন, শিবির আবারও গুপ্ত হতে চায় । তার দাবি, প্রকাশ্যে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েও সংগঠনটি সাধারণ শিক্ষার্থীর পরিচয়ে আড়ালে থাকার কৌশলকে বেশি সুবিধাজনক মনে করছে।

রোববার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক ছাত্ররাজনীতি, ইডেন কলেজের আন্দোলন এবং শিক্ষাঙ্গনের সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিয়ে পোস্টটিতে নানা মন্তব্য করেন তিনি।

রাশেদ খাঁন লেখেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের ছাত্ররাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। অতীতের মতো জোরপূর্বক মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেওয়ার চাপ, গণরুম কিংবা গেস্টরুম নির্যাতনের মতো ঘটনা এখন আর দেখা যাচ্ছে না। তবে তার অভিযোগ, ছাত্রশিবির শুরু থেকেই ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও হয়তো প্রকাশ্যে রাজনীতি করার সুযোগ পাবে না— এমন ধারণা থেকেই শিবির ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তুলেছিল। তিনি এই অবস্থানকে “শিয়ালের লেজকাটা গল্পের” সঙ্গে তুলনা করেন।

পোস্টে তিনি আরও লেখেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ছাত্রশিবিরের অনেকে প্রকাশ্যে নিজেদের পরিচয় দিয়েছে এবং সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াও পেয়েছে। কিন্তু এরপরও সংগঠনটির একটি অংশ সাধারণ শিক্ষার্থীর পরিচয়ে আড়ালে থাকতে আগ্রহী বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাশেদ খাঁনের মতে, “গুপ্ত” অবস্থানে থাকলে সংগঠন পরিচালনা এবং ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তারে কিছু বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। অতীতের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করেই তারা আবার সেই পথে হাঁটতে চাইছে বলেও দাবি করেন তিনি।

রাজধানীর Eden Mohila College-এ ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গও টানেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থীকে নেকাব বা মাস্ক পরে দেখা গেছে। তার মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যেসব শিক্ষার্থী আন্দোলনে নেমেছিলেন, তারা পরিচয় গোপন করেননি। ফলে বর্তমান আন্দোলনের ধরন তাকে “অদ্ভুত” মনে হয়েছে।

পোস্টে তিনি ইডেন কলেজের সামনে সন্ধ্যার পর রাস্তার পাশে বসা তরুণ-তরুণীদের নিয়েও মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, কলেজের ভাবমূর্তি নষ্ট করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলে মানুষ সেটিকে ইতিবাচকভাবে নেবে।

তিনি লেখেন, কোনো অভিভাবক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে ক্যাম্পাস বা গেস্টরুমে সাক্ষাতের সুযোগ রয়েছে। তাই রাস্তার পাশে দীর্ঘসময় অবস্থান করে কলেজের “বদনাম” তৈরি করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সবশেষে রাশেদ খাঁন বলেন, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে “অপসংস্কৃতি” বন্ধের দাবি তোলা উচিত। তার মতে, রাজনৈতিক চর্চা শিক্ষাঙ্গনের অংশ হলেও সেটি যেন সহিংসতা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে রূপ না নেয়, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

রাশেদ খাঁনের এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। কেউ তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করছেন। আবার অনেকে তার মন্তব্যকে বিতর্কিত বলেও সমালোচনা করছেন। বিশেষ করে পোশাক, ব্যক্তিগত আচরণ এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে তার বক্তব্য ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি, ক্যাম্পাস সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় ছাত্রসংগঠনগুলোর অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ ভূমিকা এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য এখন দ্রুত জনমত তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। ফলে এমন মন্তব্য রাজনৈতিক বিতর্ক আরও উসকে দিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত