প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণ ও রুপার দাম। সর্বশেষ সমন্বয়ের পর আজ রোববার (১০ মে) থেকে নতুন দরেই বিক্রি হচ্ছে মূল্যবান এই ধাতুগুলো। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার মূল্য বৃদ্ধির কারণে এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন Bangladesh Jewellers Association।
বাজুসের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে। এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও সমন্বয় করা হয়েছে।
জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলারের বিনিময় হার ওঠানামার কারণে স্থানীয় বাজারেও চাপ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বারবার দাম সমন্বয় করতে বাধ্য হচ্ছে সংগঠনটি।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে ঘন ঘন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। শুধু চলতি বছরেই বহুবার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দাম বৃদ্ধির প্রবণতা বেশি ছিল। ফলে ভোক্তা পর্যায়ে স্বর্ণ কেনার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
অন্যদিকে রুপার বাজারেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্বর্ণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকায়। ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দামও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর চাহিদা বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং বিনিয়োগ ঝোঁকের কারণে স্বর্ণ ও রুপার দাম বৈশ্বিকভাবেই ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশও সেই প্রবণতার বাইরে নয়।
রাজধানীর একাধিক জুয়েলারি ব্যবসায়ী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণ কেনার প্রবণতা কিছুটা কমলেও বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে চাহিদা এখনও স্থিতিশীল রয়েছে। তবে দামের অস্থিরতার কারণে ক্রেতারা অনেকেই সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করছেন।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্বর্ণ সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়েন, ফলে দাম বাড়ে। এর প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও সরাসরি পড়ছে।
জুয়েলারি খাতের ব্যবসায়ীরা আরও জানান, আমদানি ব্যয়, শুল্ক কাঠামো এবং ডলারের বিনিময় হারও দেশের স্বর্ণের দামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সামান্য পরিবর্তন হলেও স্থানীয় বাজারে তা দ্রুত প্রতিফলিত হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণির অনেকেই স্বর্ণ কেনা পিছিয়ে দিচ্ছেন বা বিকল্প হিসেবে হালকা ডিজাইনের গহনার দিকে ঝুঁকছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল রাখতে হলে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা এবং আমদানি নীতিতে স্বচ্ছতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারে জুয়েলারি খাতে আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এদিকে আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তার ওপর নির্ভর করবে দেশের স্বর্ণ ও রুপার বাজারের দিকনির্দেশনা। তবে আপাতত উচ্চমূল্যের এই ধাতু দুইটির বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কাই বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।