বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নিয়ে গণশুনানি ২০-২১ মে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
  • ৬ বার
বিদ্যুতের দাম বাড়ানো

প্রকাশ: ১০ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে বিদ্যুৎ খাতের বাড়তে থাকা আর্থিক চাপ এবং ঘাটতি মোকাবিলায় পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। এ প্রস্তাবের ওপর আগামী ২০ ও ২১ মে গণশুনানির আয়োজন করেছে Bangladesh Energy Regulatory Commission। বিদ্যুতের মূল্যহার পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ইতোমধ্যে জনমনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুতের উৎপাদন, সঞ্চালন এবং বিতরণ ব্যয়ের সঙ্গে বর্তমান ট্যারিফ কাঠামোর বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। সেই কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন মূল্যহার নির্ধারণের প্রস্তাব জমা দিয়েছে।

সরকারি সংস্থা Bangladesh Power Development Board বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য বাড়ানোর জন্য কমিশনের কাছে আবেদন করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বিদ্যুতের দাম কমপক্ষে ১৭ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধি, আমদানি নির্ভরতা এবং ভর্তুকির চাপ বৃদ্ধিকে এই প্রস্তাবের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু পাইকারি মূল্য নয়, বিদ্যুতের সঞ্চালন ও খুচরা পর্যায়ের মূল্যহারও পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব জমা পড়েছে। Power Grid Bangladesh PLC বিদ্যুতের সঞ্চালন ট্যারিফ পরিবর্তনের আবেদন করেছে। পাশাপাশি Bangladesh Rural Electrification Board, Dhaka Power Distribution Company Limited, Dhaka Electric Supply Company Limited, West Zone Power Distribution Company Limited এবং Northern Electricity Supply PLC খুচরা মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে।

বিইআরসি জানিয়েছে, বিদ্যুৎ খাতের ট্যারিফ নির্ধারণসংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও প্রবিধান অনুসরণ করেই এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। কমিশনের ভাষ্যমতে, গণশুনানির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষ, বিশেষজ্ঞ, ভোক্তা প্রতিনিধি এবং নাগরিকদের মতামত গ্রহণ করা হবে। পরে কারিগরি মূল্যায়ন শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ মে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থিত Krishibid Institution Bangladesh অডিটোরিয়ামে পাইকারি বিদ্যুতের মূল্যহার পরিবর্তন নিয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একই স্থানে বিদ্যুতের সঞ্চালন মূল্যহার নিয়ে শুনানি হবে।

এরপর ২১ মে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খুচরা পর্যায়ের বিদ্যুতের মূল্যহার পরিবর্তন নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পিডিবি, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ডিপিডিসি, ডেসকো, ওজোপাডিকো এবং নেসকোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে এসেছে যখন সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি ব্যয় এবং জীবনযাত্রার বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির খবরে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিল্পকারখানা, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়বে। এর প্রভাব শিল্পপণ্য, পরিবহন এবং ভোক্তা পর্যায়ের পণ্যমূল্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকায় বিপুল ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে। সেই চাপ কমাতে ট্যারিফ সমন্বয় প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

গত ৬ মে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, পিডিবির প্রস্তাব কমিশনের হাতে পৌঁছেছে এবং তা কারিগরি কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হবে। তিনি জানান, বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ভোক্তা স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।

বিদ্যুৎ খাতে অতীতে একাধিকবার মূল্য সমন্বয় করা হলেও এবার সম্ভাব্য বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, শুধু মূল্য বাড়িয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি, সিস্টেম লস কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে গণশুনানিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ভোক্তা অধিকার সংগঠন, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকেও মতামত তুলে ধরার প্রস্তুতি চলছে। তারা বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা, উৎপাদন ব্যয় এবং ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগামী ২০ ও ২১ মে অনুষ্ঠিত এই গণশুনানির পর কমিশনের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে দেশের বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার কতটা বাড়বে এবং তার প্রভাব কত দূর পর্যন্ত পৌঁছাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত