পুলিশকে নিরপেক্ষ থাকার শপথের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
  • ৭ বার

প্রকাশ: ১০ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে শুরু হওয়া পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশের জনগণের জানমাল রক্ষা করা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি যেন রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সেই বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

রোববার সকালে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং সদস্যদের সালাম গ্রহণ করেন। খোলা জিপে করে প্যারেড পরিদর্শনের সময় মাঠজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বিভিন্ন কন্টিনজেন্টের সুশৃঙ্খল অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে আলাদা মাত্রা যোগ করে। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি এবারের পুলিশ সপ্তাহে উঠে এসেছে গণতন্ত্র, জবাবদিহি এবং জনআস্থার প্রশ্নও।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামে পুলিশ বাহিনীর বহু সদস্য আত্মত্যাগ করেছেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে সেই আত্মত্যাগ কখনও ভোলা যাবে না। তিনি উল্লেখ করেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশ কেবল আইন প্রয়োগকারী বাহিনী নয়, বরং জনগণের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক। তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে থাকার মানসিকতা ধরে রাখতে হবে।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে গত দেড় দশকের রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশে চলা আন্দোলন-সংগ্রাম, দমন-পীড়ন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। সেই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ দেশের গণতন্ত্রপন্থী মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। জনগণের ভোটে গঠিত বর্তমান সরকার সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, অতীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগ জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছিল। একটি পেশাদার বাহিনী হিসেবে পুলিশের কাজ হবে সংবিধান ও আইনের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা। কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে পুলিশকে ব্যবহার করা হলে রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। ব্যবসায়ী, শ্রমিক, শিক্ষার্থী কিংবা গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষ— সবাই চায় নিরাপদ জীবন। সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পুলিশের ওপরই সবচেয়ে বেশি বর্তায়। তাই জনবান্ধব আচরণ, পেশাদার তদন্ত এবং নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এবারের পুলিশ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”। আয়োজকদের মতে, এবারের প্রতিপাদ্যের মধ্য দিয়ে জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। চার দিনব্যাপী এই কর্মসূচি চলবে ১৩ মে পর্যন্ত। এ সময়ে সেমিনার, বিশেষ ব্রিফিং, অভ্যন্তরীণ বৈঠক এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণমূলক আয়োজন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

পুলিশ সপ্তাহ ঘিরে রাজধানীর রাজারবাগ এলাকায় ছিল বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি জাতীয় গুরুত্ব বহন করে। রাষ্ট্রীয় প্রটোকল মেনে পুরো আয়োজন পরিচালনা করা হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে রাজনৈতিক ইঙ্গিত যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সুস্পষ্ট বার্তা। বিশেষ করে “ফ্যাসিবাদী শক্তি” শব্দবন্ধ ব্যবহার করে তিনি অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন বলে অনেকের ধারণা। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং জবাবদিহি নিয়ে আলোচনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশেও পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাইবার অপরাধ দমন, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন মোকাবিলা এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমে পুলিশের সক্রিয় অংশগ্রহণ ইতোমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে একইসঙ্গে বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে।

এমন বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে নৈতিক দায়িত্ববোধ এবং পেশাদারিত্বের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে শুধু শক্তি প্রয়োগ নয়, মানবিকতা এবং ন্যায়বিচারের চর্চাও জরুরি।

অনুষ্ঠানের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং আত্মমর্যাদার প্রতিফলন তিনি আজকের প্যারেডে দেখেছেন। এই চেতনা ধরে রেখে পুলিশ বাহিনী দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। তাই পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে দেওয়া এই বার্তা আগামী দিনের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত