সন্ধ্যার আগেই কালবৈশাখী ঝড়ের শঙ্কা ৮ অঞ্চলে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
  • ৯ বার
কালবৈশাখী ঝড়ের শঙ্কা

প্রকাশ: ১০ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দেশের কয়েকটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে বজ্রপাত ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।

রোববার সকালে আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হয়। আবহাওয়া অফিস বলছে, মৌসুমি পরিবর্তনের এই সময়টিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ করেই কালবৈশাখী ঝড়ের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কালবৈশাখী সাধারণত স্বল্প সময় স্থায়ী হলেও এর প্রভাব অনেক সময় ভয়াবহ হতে পারে। ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাত, আকস্মিক দমকা হাওয়া এবং ভারী বর্ষণ জনজীবনে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। বিশেষ করে খোলা জায়গা, নদীপথ এবং উপকূলীয় অঞ্চলে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে।

আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুধু উত্তরাঞ্চল বা উপকূল নয়, দেশের প্রায় সব বিভাগেই অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা এবং বরিশাল বিভাগেও দিনের বিভিন্ন সময়ে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এদিকে পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে নতুন করে আরেকটি আবহাওয়া পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বর্তমানে একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ অবস্থান করছে। এর প্রভাবে বায়ুমণ্ডলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি আগামী সোমবারের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় একটি নতুন লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হলে দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। সেই সঙ্গে বজ্রঝড়ের তীব্রতাও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও এখনই বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি, তারপরও আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে বজ্রপাত ও কালবৈশাখীর প্রকোপ বেড়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং মৌসুমি আবহাওয়ার অস্বাভাবিক আচরণের কারণে এ ধরনের ঝড়ের সংখ্যা ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রামীণ জনপদে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় গরমের তীব্রতা সাময়িকভাবে কমে আসতে পারে।

নদীবন্দরগুলোতে সতর্ক সংকেত জারি হওয়ার পর নৌযান চালকদের সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ছোট নৌকা ও ট্রলারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে ঝড়ের সময় খোলা মাঠ, উঁচু গাছ এবং বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

শহরাঞ্চলেও ঝড়ের সময় বিলবোর্ড, টিনের ছাউনি এবং দুর্বল স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, বৈদ্যুতিক সংযোগ স্পর্শ এবং খোলা জায়গায় অবস্থান থেকে বিরত থাকার কথাও বলা হয়েছে।

এদিকে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সন্ধ্যার মধ্যে আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। তাই পরবর্তী সতর্কবার্তা নিয়মিত অনুসরণ করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত