সর্বশেষ :
‘ক্ষমতাহীন নাগরিকই শাসকদলের চাঁদাবাজির শিকার’: হাসনাত আবদুল্লাহ সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা: নিহত ১, আহত ৮ গাজীপুরে গভীর রাতে বিধ্বংসী আগুন: পুড়ল মসজিদ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নভেম্বরের শুরুতে স্কুল-কলেজে মিলতে পারে টানা ৩ দিনের ছুটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে অনিয়ম: জালিয়াতি আর দালাল চক্রে ডুবছে সড়ক নিরাপত্তা আমদানি করা ১ লাখ ৭৫ হাজার টন মার্কিন গম চট্টগ্রাম বন্দরে জৈন্তাপুর ও জাফলংয়ে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ নিয়োগ প্রশ্নফাঁসে বিএআরসির সহকারী পরিচালক গ্রেপ্তার পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংক হতে প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিসি ব্যাংক ডিআইজির বাড়িতে মাদকের আসর, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে শফিকুরের প্রশ্ন

বাবাকে হারিয়েও ফ্লিকের স্মরণীয় লিগ জয়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ৯৫ বার
বাবাকে হারিয়েও ফ্লিকের স্মরণীয় লিগ জয়

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফুটবল কখনও শুধুই একটি খেলা নয়। কখনও এটি আবেগ, কখনও সংগ্রাম, আবার কখনও গভীর ব্যক্তিগত বেদনার মাঝেও জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছুঁয়ে দেখার গল্প। বার্সেলোনার জার্মান কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের জন্য এবারের লা লিগা জয় তেমনই এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকল। যে রাতে বার্সেলোনা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে লা লিগা শিরোপা নিশ্চিত করল, সেই রাতেই ব্যক্তিগত জীবনের গভীরতম শোকও বয়ে বেড়াতে হয়েছে তাকে। ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ আগেই তিনি হারান নিজের বাবাকে।

তবু নু ক্যাম্পের আলো ঝলমলে রাতে দায়িত্ব থেকে সরে যাননি ফ্লিক। ডাগআউটে দাঁড়িয়ে ছিলেন বিষণ্ন মুখে, চোখে ছিল শোকের ছাপ। কিন্তু তার দল যেন বুঝতে পেরেছিল, এই ম্যাচ শুধু একটি শিরোপা জয়ের লড়াই নয়; এটি তাদের কোচের জন্য আবেগের এক বিশেষ মুহূর্তও। শেষ পর্যন্ত মার্কাস রাশফোর্ড ও ফেরান তোরেসের গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় বার্সেলোনা। আর সেই জয়ের মধ্য দিয়েই নিশ্চিত হয় লা লিগা শিরোপা।

এটি হ্যান্সি ফ্লিকের দ্বিতীয় লা লিগা শিরোপা। আগের মৌসুমেও তার অধীনে ট্রফি জিতেছিল বার্সেলোনা। তবে এবারের অর্জনের আবেগ ও গুরুত্ব আলাদা। কারণ ফুটবলীয় সাফল্যের আনন্দের সঙ্গে একই দিনে মিশে গেছে ব্যক্তিগত শোকের গভীরতা। ম্যাচ শেষে লা লিগা টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আবেগাপ্লুত ফ্লিক বলেন, “আমি এই দিনটি কখনও ভুলব না। শুরুটা খুব কঠিন ছিল। আমার বাবা মারা গেছেন। কিন্তু আমার দল অসাধারণ। তারা যেন একটি পরিবার।”

ফ্লিকের এই কথাগুলো যেন বার্সেলোনার বর্তমান দলটির ভেতরের সম্পর্কের প্রতিচ্ছবিও তুলে ধরে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা সংকট, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং মাঠের হতাশা পেরিয়ে দলটি আবারও ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত হয়েছে। আর সেই পুনর্জাগরণের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন ফ্লিক।

এল ক্লাসিকোর মতো উচ্চচাপের ম্যাচে খেলোয়াড়দের আচরণেও ছিল কোচের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা। ফ্লিকের বাবার স্মরণে পুরো দল কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামে। ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতাও পালন করা হয়। সেই সময় টাচলাইনে দাঁড়িয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি জার্মান এই কোচ। স্টেডিয়ামের হাজারো দর্শকও নীরব শ্রদ্ধায় অংশ নেন। ফুটবলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে মানবিকতার এই দৃশ্য অনেক সমর্থকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

তবে আবেগের মুহূর্ত পেরিয়ে মাঠে বার্সেলোনা ছিল আত্মবিশ্বাসী ও নিয়ন্ত্রিত। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে কাতালানরা। রিয়াল মাদ্রিদের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে তারা একের পর এক সুযোগ তৈরি করে। প্রথমার্ধে মার্কাস রাশফোর্ডের গোল দলকে এগিয়ে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধে ফেরান তোরেস ব্যবধান বাড়ালে মূলত নিশ্চিত হয়ে যায় বার্সেলোনার জয়।

ম্যাচ শেষে ফ্লিক বলেন, “আজ তারা সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে। আমি সমর্থকদের নিয়েও গর্বিত। এই স্টেডিয়ামে, রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে এল ক্লাসিকোতে জিতে লা লিগা শিরোপা পাওয়া অসাধারণ অনুভূতি।” তিনি আরও বলেন, “সবাই ভাবছিল আমরা জিততে পারি, কিন্তু রিয়াল দুর্দান্ত দল। ম্যাচটি সহজ ছিল না। তবে আমরা খুব ভালো খেলেছি এবং সঠিক সময়ে গোল করেছি।”

ফ্লিকের অধীনে বার্সেলোনার পরিবর্তন এখন স্পষ্ট। দলটি শুধু ফলাফলেই নয়, খেলার ধরনেও ফিরেছে নিজেদের ঐতিহ্যে। দ্রুত পাসিং, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং তরুণ খেলোয়াড়দের সাহসী ফুটবল আবারও দর্শকদের মুগ্ধ করছে। বিশেষ করে মৌসুমজুড়ে দলের ধারাবাহিকতা বার্সেলোনাকে শিরোপার সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদারে পরিণত করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ফ্লিকের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হলো তিনি অভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলারদের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে পেরেছেন। একই সঙ্গে বড় ম্যাচে মানসিক দৃঢ়তা বাড়িয়েছে তার দল। এল ক্লাসিকোর মতো ম্যাচে চাপ সামলে যেভাবে বার্সা খেলেছে, তা এই মৌসুমের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

এই শিরোপা জয়ের পরও মৌসুম শেষ হয়নি বার্সেলোনার জন্য। সামনে রয়েছে আরও কিছু রেকর্ড গড়ার সুযোগ। বাকি তিন ম্যাচে জয় পেলে লা লিগার ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে ১০০ পয়েন্ট স্পর্শ করবে বার্সেলোনা। এছাড়া এক মৌসুমে নিজেদের ১৯টি হোম ম্যাচের সবগুলো জেতার অনন্য কীর্তিও গড়তে পারে দলটি।

ক্লাবটির সমর্থকরাও এখন নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন পর বার্সেলোনা আবারও এমন একটি দল হয়ে উঠেছে, যারা শুধু দেশীয় শিরোপাই নয়, ইউরোপীয় মঞ্চেও আধিপত্য বিস্তারের সামর্থ্য রাখে। আর সেই স্বপ্নের কেন্দ্রে এখন হ্যান্সি ফ্লিক।

তবে এই সাফল্যের রাতেও ব্যক্তিগত বেদনার ছায়া এড়াতে পারেননি তিনি। ফুটবল ইতিহাসে এমন অনেক মুহূর্ত আছে, যেখানে খেলোয়াড় বা কোচরা ব্যক্তিগত শোকের মাঝেও দায়িত্ব পালন করে গেছেন। ফ্লিকের এই রাতও হয়তো তেমনই এক অধ্যায় হয়ে থাকবে—যেখানে একজন পুত্র বাবাকে হারানোর শোক বুকে নিয়েও নিজের দলকে শিরোপার আনন্দ এনে দিয়েছেন।

নু ক্যাম্পে শিরোপা উদযাপনের সময় যখন সমর্থকরা আনন্দে গাইছিলেন, তখন ফ্লিকের চোখে ছিল ভিন্ন এক আবেগ। হয়তো তিনি জানতেন, জীবনের কিছু দিন আনন্দ আর বেদনার এমন মিশ্র স্মৃতি হয়ে থাকে, যা কখনও ভুলে যাওয়া যায় না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com