তিন দিনের চীন সফর শেষে ট্রাম্পের বিদায়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬
  • ৩০ বার
চীন সফর শেষে ট্রাম্প বিদায়, শি জিনপিং বৈঠক

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন ত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (১৫ মে) সফরের শেষ দিনে বেইজিংয়ে তাকে দেওয়া হয় বর্ণাঢ্য ও কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বিদায় সংবর্ধনা। এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে লাল গালিচা সংবর্ধনা, দুই দেশের পতাকা নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং আনুষ্ঠানিক বিদায় জানান চীনা ও মার্কিন কর্মকর্তারা।

সফরের শেষ দিনটিতে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের ঝোংনানহাই কমপ্লেক্সে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের চূড়ান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি ও স্টেট কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক কার্যালয় হিসেবে পরিচিত এই নিরাপত্তাবেষ্টিত কমপ্লেক্সটি সাধারণত বিদেশি নেতাদের জন্য অত্যন্ত সীমিতভাবে উন্মুক্ত রাখা হয়।

সকালের এই বৈঠকের আগে ট্রাম্পকে ঝোংনানহাইয়ের ঐতিহাসিক বাগান ও লেকঘেরা অংশ ঘুরে দেখানো হয়। শতবর্ষী ও হাজার বছরের পুরনো গাছপালা ঘেরা পরিবেশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিস্ময় প্রকাশ করেন বলে জানা যায়। চীনা প্রেসিডেন্ট শি নিজে তাকে বিভিন্ন অংশ ঘুরিয়ে দেখান এবং ঐতিহ্যবাহী বাগানের ইতিহাস ব্যাখ্যা করেন।

পরিদর্শনের সময় ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্টকে প্রশ্ন করেন, এই কমপ্লেক্সে অন্যান্য বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদেরও কি এভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। জবাবে শি জিনপিং জানান, এটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা এবং সাধারণত এখানে কূটনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় না। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হলেও সেটি খুবই সীমিত, অতীতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখানে এসেছিলেন।

এরপর দুই নেতা একটি প্রাচীন গাছের পাশে দাঁড়িয়ে আলাপ করেন, যার বয়স প্রায় কয়েক শত বছর বলে জানা যায়। ট্রাম্প গাছটি স্পর্শ করে প্রশংসা করেন এবং বলেন, পরিবেশ ও ইতিহাসের এই সংমিশ্রণ তার কাছে ভালো লেগেছে।

বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধি দল অংশ নেয় এবং বৈঠকের আলোচনায় উঠে আসে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, ইরান পরিস্থিতি এবং তাইওয়ান ইস্যুসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয়। যদিও এই বৈঠকে বড় কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার ঘোষণা আসেনি, তবে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কিছুটা কূটনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সফরের পুরো সময়জুড়ে চীন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ব্যাপক কূটনৈতিক মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানায়। বেইজিং বিমানবন্দর থেকে শুরু করে সরকারি অতিথিশালা পর্যন্ত ট্রাম্পের সফর ছিল বিশেষ নিরাপত্তা ও প্রটোকল ব্যবস্থায় সাজানো। সেনা কুচকাওয়াজ, বিলাসবহুল নৈশভোজ এবং ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনায় সফরকে ঘিরে এক ধরনের ‘সফট ডিপ্লোমেসি’র প্রদর্শন দেখা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় এক দশক পর বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির নেতার এই মুখোমুখি বৈঠক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সমাধান হয়নি, তবে এই সফর সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল করার একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সফর শেষে বেইজিং ত্যাগের আগে ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয়। লাল গালিচা, পতাকা নাড়ানো এবং আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছার মধ্য দিয়ে এই বিদায় পর্ব সম্পন্ন হয়। এ সময় দুই দেশের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পরিবেশ ছিল কূটনৈতিক সৌহার্দ্যের প্রতীকী প্রদর্শন।

ট্রাম্পের এই সফর শুরু হয়েছিল বুধবার (১৩ মে)। তিন দিনের অবস্থানকালে তিনি একাধিক শীর্ষ বৈঠক, ব্যক্তিগত আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক পরিদর্শনে অংশ নেন। পুরো সফরজুড়ে দুই নেতার পারস্পরিক সৌজন্য ও প্রশংসা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, সম্পর্কের উষ্ণতা দেখা গেলেও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যনীতি, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা এবং ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এখনো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। ফলে এই সফর দীর্ঘমেয়াদে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই নির্ধারণ করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত