কান উৎসবে লিয়া-অ্যাডেলকে ঘিরে নতুন উন্মাদনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
  • ১৫ বার
লিয়া সেডক্স এবং অ্যাডেল এক্সারকোপুলোস

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসর কান চলচ্চিত্র উৎসব শুধু নতুন সিনেমার প্রদর্শনী নয়, বরং এটি সিনেমাপ্রেমীদের আবেগ, স্মৃতি এবং ইতিহাসের এক বিশাল মিলনমেলা। প্রতি বছর বিশ্বের নানা প্রান্তের নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীরা এই উৎসবকে ঘিরে অপেক্ষা করেন নতুন চমক, আলোচনার জন্ম দেওয়া সিনেমা এবং স্মরণীয় মুহূর্তের জন্য। এবারের উৎসবেও সেই আবহ তৈরি হয়েছে, আর তার কেন্দ্রে উঠে এসেছে দুই ফরাসি অভিনেত্রী লিয়া সেডক্স ও অ্যাডেল এক্সারকোপুলোসের নাম।

২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ফরাসি চলচ্চিত্র ‘ব্লু ইজ দ্য ওয়ার্মেস্ট কালার’ কান চলচ্চিত্র উৎসবের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। সেই সিনেমার মাধ্যমে শুধু আলোচনার কেন্দ্রেই আসেননি লিয়া ও অ্যাডেল, বরং তাদের অভিনয় বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। দীর্ঘ সময় পর আবারও কান উৎসবে তাদের উপস্থিতির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় পুরোনো স্মৃতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

পরিচালক আবদেললতিফ কেচিচ নির্মিত ‘ব্লু ইজ দ্য ওয়ার্মেস্ট কালার’ মূলত দুই তরুণীর সম্পর্ক, ভালোবাসা, আবেগ এবং বিচ্ছেদের গল্প নিয়ে নির্মিত। সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই একদিকে যেমন প্রশংসা পেয়েছিল, অন্যদিকে সৃষ্টি হয়েছিল তীব্র বিতর্ক। সিনেমার খোলামেলা দৃশ্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হলেও অধিকাংশ সমালোচক একমত ছিলেন যে এটি আধুনিক প্রেমের অন্যতম শক্তিশালী ও বাস্তবধর্মী উপস্থাপন।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, সিনেমাটির সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল দুই অভিনেত্রীর অভিনয়। লিয়া সেডক্স এবং অ্যাডেল এক্সারকোপুলোস এমনভাবে চরিত্রগুলোকে জীবন্ত করে তুলেছিলেন, যা দর্শকদের আবেগের গভীরে পৌঁছে গিয়েছিল। বিশেষ করে সম্পর্কের টানাপোড়েন, ভালোবাসার উচ্ছ্বাস এবং বিচ্ছেদের বেদনা তারা যে স্বাভাবিকতায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন, তা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের দীর্ঘদিন মনে থাকবে।

সেই সময় কান চলচ্চিত্র উৎসবের বিচারকমণ্ডলীর প্রধান ছিলেন কিংবদন্তি নির্মাতা স্টিভেন স্পিলবার্গ। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, সাহসী বিষয়বস্তুর কারণে সিনেমাটি হয়তো সর্বোচ্চ সম্মাননা পাবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে সিনেমাটি জিতে নেয় মর্যাদাপূর্ণ পাম দ’অর পুরস্কার।

তবে সবচেয়ে বড় চমক ছিল অন্য জায়গায়। সাধারণত এই পুরস্কার শুধু পরিচালকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নিয়ম ভেঙে লিয়া সেডক্স ও অ্যাডেল এক্সারকোপুলোসকেও সম্মাননার অংশীদার করা হয়। কান উৎসবের ইতিহাসে এটি ছিল বিরল এক ঘটনা, যা সিনেমাটির গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

পুরস্কার পাওয়ার পর অ্যাডেল এক্সারকোপুলোস বলেছিলেন, এটি কেবল একটি প্রেমের গল্প নয়, বরং মানুষের প্রতি সহনশীলতা এবং আবেগের গল্প। অন্যদিকে লিয়া সেডক্স বলেছিলেন, তাদের অভিনয়ের মূল শক্তি ছিল পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং বিশ্বাস।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ‘ব্লু ইজ দ্য ওয়ার্মেস্ট কালার’ আধুনিক ফরাসি সিনেমার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে শুরু করে। বিশ্বের বিভিন্ন চলচ্চিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও সিনেমাটি নিয়ে আলোচনা হয়। কেউ এটিকে সাহসী শিল্পচর্চা হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ দেখেছেন মানবিক সম্পর্কের গভীর অনুসন্ধান হিসেবে।

এবারের কান উৎসবে আবারও আলোচনায় এসেছে এই দুই অভিনেত্রীর নাম। অ্যাডেল অভিনীত নতুন সিনেমা ‘অ্যানাদার ডে’ প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রদর্শিত হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে লিয়া সেডক্স অভিনয় করেছেন ‘জেন্টেল মনস্টার’ এবং ‘দ্য আননোন’ নামের দুটি আলোচিত সিনেমায়।

ফলে পুরো উৎসবজুড়ে এখন এক ধরনের কৌতূহল কাজ করছে। দর্শক, আলোকচিত্রী এবং চলচ্চিত্রবোদ্ধারা অপেক্ষা করছেন—দীর্ঘদিন পর কি আবারও একসঙ্গে দেখা যাবে এই দুই অভিনেত্রীকে? হয়তো লালগালিচায় একটি হাসি, একটি আলিঙ্গন কিংবা একসঙ্গে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোই ফিরিয়ে আনবে ২০১৩ সালের সেই আলোড়িত সময়ের স্মৃতি।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, কান চলচ্চিত্র উৎসবের সৌন্দর্য এখানেই যে এটি শুধু নতুন সিনেমার প্রদর্শনী নয়, বরং অতীতের স্মরণীয় মুহূর্তগুলোও নতুনভাবে জীবন্ত করে তোলে। লিয়া ও অ্যাডেলের সম্ভাব্য পুনর্মিলন সেই আবেগকেই আরও গভীর করেছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক দর্শক লিখছেন, ‘ব্লু ইজ দ্য ওয়ার্মেস্ট কালার’ তাদের জীবনের অন্যতম প্রভাবশালী সিনেমা। কেউ কেউ আবার বলছেন, এই দুই অভিনেত্রীর পুনর্মিলন হলে সেটি এবারের উৎসবের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

সব মিলিয়ে এবারের কান চলচ্চিত্র উৎসব এখন শুধু নতুন সিনেমা নয়, বরং পুরোনো এক আবেগঘন অধ্যায়ের পুনরুজ্জীবনের অপেক্ষায়ও রয়েছে। লিয়া সেডক্স ও অ্যাডেল এক্সারকোপুলোসকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই উন্মাদনা প্রমাণ করছে, সময় পেরিয়ে গেলেও কিছু সিনেমা এবং কিছু জুটি দর্শকের হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত