৮ অঞ্চলে ঝড়-বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা জারি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
  • ১৫ বার
৮ অঞ্চলে সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্তত আটটি অঞ্চলে সন্ধ্যার মধ্যে দমকা হাওয়া, বজ্রবৃষ্টি এবং ঝড়ো আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে করে জনজীবনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে নদীপথে চলাচলকারী নৌযান, খেটে খাওয়া মানুষ এবং খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে বাড়ছে শঙ্কা।

মঙ্গলবার দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বজ্রবৃষ্টিরও প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় আকাশ মেঘলা হয়ে ওঠে। কোথাও কোথাও গুমোট আবহাওয়া বিরাজ করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বাতাসের চাপ ও মেঘের ঘনত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়।

রাজধানী ঢাকাতেও দুপুরের পর থেকে আকাশে কালো মেঘ জমতে দেখা যায়। অফিসফেরত মানুষ এবং দৈনন্দিন কাজে বাইরে থাকা নাগরিকদের মধ্যে অনেকেই দ্রুত বাসায় ফেরার চেষ্টা করেন। আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে নগরজীবনে কিছুটা অস্থিরতাও তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রীষ্মের শেষভাগ এবং বর্ষা শুরুর আগের এই সময়টাতে দেশে কালবৈশাখী ধরনের ঝড়ের প্রবণতা বেড়ে যায়। হঠাৎ দমকা হাওয়া, বজ্রপাত এবং স্বল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিপাত এই সময়ের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও আবহাওয়ার আচরণ এখন অনেক বেশি অনিশ্চিত হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন তারা।

নদীপথে চলাচলকারী লঞ্চ, ট্রলার এবং ছোট নৌযানের চালকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে মাঝনদীতে অবস্থানরত ছোট নৌযানগুলোকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলা হয়েছে। মাছ ধরার ট্রলার এবং উপকূলীয় এলাকার জেলেদেরও আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

সিলেট অঞ্চলে কয়েকদিন ধরেই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুপুরের পর থেকে বাতাসের গতি বাড়তে শুরু করেছে এবং আকাশে মেঘের ঘনত্বও বেড়েছে। একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলেও। উপকূলীয় এলাকায় সাগর উত্তাল না হলেও বাতাসের গতিবেগ বৃদ্ধি পাওয়ায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় খোলা মাঠ, নদী, উঁচু গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির আশপাশে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদেরও জমিতে কাজ করার সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে।

শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। স্বল্প সময়ের ভারী বর্ষণে রাজধানীসহ বিভিন্ন নগরীর নিচু এলাকায় পানি জমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবহাওয়া বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বজ্রপাতের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। প্রতি বছর ঝড়-বৃষ্টির মৌসুমে বজ্রপাতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। তাই আগাম সতর্কতা এবং সচেতনতা বাড়ানো এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আবহাওয়ার সতর্কবার্তা নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই সম্ভাব্য ঝড়-বৃষ্টির ছবি ও ভিডিও শেয়ার করছেন। কেউ কেউ বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং গাছপালা ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে নতুন সতর্কবার্তা দেওয়া হবে। জনগণকে আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হলেও আগাম প্রস্তুতি এবং সচেতনতা মানুষের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারে। তাই ঝড়-বৃষ্টির সময়ে অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাতায়াত এড়িয়ে চলা, বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে নিরাপদ থাকা এবং নদীপথে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করা জরুরি।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্ভাব্য এই ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আশা, সময়মতো সতর্কতা জারির কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত