২০৩০ বিশ্বকাপে ৬৬ দল নিয়ে বড় পরিকল্পনা ফিফার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬
  • ৪৯ বার
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে আবারও বড় ধরনের পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ এখনো মাঠে গড়ায়নি, এর আগেই ২০৩০ বিশ্বকাপকে আরও বড় আকারে আয়োজন করার পরিকল্পনা সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে এখন ৪৮ দলের পরিবর্তে ৬৬ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছালেও এটি বিশ্ব ফুটবলে নতুন করে উত্তেজনা ও বিতর্ক তৈরি করেছে।

এই প্রস্তাব প্রথম সামনে আনে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বকাপকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা এবং বিভিন্ন অঞ্চলের দেশগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি করা। তাদের মতে, বিশ্বকাপ কেবল শক্তিশালী ফুটবল দেশগুলোর জন্য সীমাবদ্ধ না রেখে বিশ্বের সব অঞ্চলের জন্য উন্মুক্ত করা উচিত, যাতে ছোট ও উন্নয়নশীল দেশগুলোও আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পায়।

আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ফিফা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকাপকে আরও বৈশ্বিক করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বারবার বলেছেন, বিশ্বকাপ হওয়া উচিত এমন একটি আয়োজন যেখানে পৃথিবীর প্রতিটি অঞ্চলের মানুষ ফুটবলের মাধ্যমে একত্রিত হতে পারে। তাঁর মতে, অংশগ্রহণকারী দেশ যত বাড়বে, ফুটবলের প্রসার তত বাড়বে এবং নতুন প্রতিভা উঠে আসার সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।

বর্তমানে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকেই দলসংখ্যা ৩২ থেকে ৪৮ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনই ফুটবল ইতিহাসে একটি বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যেই ৬৬ দলের প্রস্তাব আসায় প্রশ্ন উঠেছে, ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের কাঠামো কতটা বড় হতে পারে এবং এর সীমা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দল সংখ্যা বাড়লে টুর্নামেন্টের কাঠামো, ম্যাচের সূচি এবং আয়োজনের জটিলতা বহুগুণ বেড়ে যাবে।

২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য ইতিমধ্যে কয়েকটি দেশের নাম আলোচনায় রয়েছে। স্পেন, পর্তুগাল এবং মরক্কো যৌথভাবে এই আসরের মূল আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে এবং প্যারাগুয়েতে বিশেষ কিছু ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এমন বহুদেশীয় আয়োজনের মধ্যে যদি আরও বড় পরিসরে দল বাড়ানো হয়, তাহলে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্তৃত ও জটিল বিশ্বকাপ হয়ে উঠতে পারে।

এই প্রস্তাবের পক্ষে যারা আছেন, তারা মনে করেন বিশ্বকাপ শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক উৎসব। তাদের মতে, আফ্রিকা, এশিয়া এবং ওশেনিয়ার অনেক দেশ এখনো নিয়মিতভাবে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় না। দল সংখ্যা বাড়ালে এসব অঞ্চলের দেশগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা বিশ্ব ফুটবলের ভারসাম্য আরও শক্তিশালী করবে।

অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, বিশ্বকাপের মান বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অতিরিক্ত দল যুক্ত হলে অনেক দুর্বল দলের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে, যার ফলে প্রতিযোগিতার মান কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ওপর শারীরিক চাপ আরও বাড়বে, কারণ ক্লাব ও জাতীয় দলের ম্যাচের চাপ ইতিমধ্যে অনেক বেশি।

বিশ্লেষকদের আরেকটি উদ্বেগ হলো অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা। এত বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হলে স্টেডিয়াম, পরিবহন, নিরাপত্তা এবং সময়সূচি ব্যবস্থাপনায় বিশাল চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। আয়োজক দেশগুলোর জন্য এটি আর্থিক ও প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

তবে অর্থনৈতিক দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপকে ঘিরে সম্প্রচার স্বত্ব, টিকিট বিক্রি এবং বাণিজ্যিক স্পনসরশিপ থেকে বিপুল আয় হয়। দল সংখ্যা বাড়লে ম্যাচের সংখ্যা বাড়বে, ফলে আয়ও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই কারণেই ফিফার ভেতরে বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২৬ বিশ্বকাপের সফলতা এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসরটি যদি সফলভাবে সম্পন্ন হয়, তাহলে ২০৩০ বিশ্বকাপ আরও বড় করার ধারণা শক্তিশালী হতে পারে। তবে যদি সেখানে কোনো বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে এই পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

বর্তমানে ৬৬ দলের প্রস্তাবটি আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে ফিফার অভ্যন্তরে বিষয়টি নিয়ে যে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তা আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেউ এটিকে ফুটবলের বৈশ্বিক সম্প্রসারণ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে প্রতিযোগিতার মান হ্রাসের ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ২০৩০ বিশ্বকাপ ঘিরে সম্ভাব্য এই পরিবর্তন শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজনের সম্প্রসারণ নয়, বরং ফুটবলের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই সিদ্ধান্ত ফুটবলকে আরও বিস্তৃত করবে, নাকি তার প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক মানকে প্রভাবিত করবে—এর উত্তর সময়ের অপেক্ষায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত