কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
  • ৬ বার
কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইউক্রেনের রাজধানী Kyiv–এ আবারও ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রোববার (২৪ মে) গভীর রাতে চালানো এই সমন্বিত হামলায় আবাসিক ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন বহু মানুষ।

রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ১টার পরপরই কিয়েভজুড়ে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই শহরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে, তবে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে বলে নিশ্চিত করেছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, রাজধানীর কেন্দ্রীয় শেভচেঙ্কো জেলায় একটি নয়তলা আবাসিক ভবনে সরাসরি হামলা হয়। ওই ভবনে আগুন ধরে যায় এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েন বহু মানুষ। উদ্ধারকর্মীরা রাতভর কাজ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

হামলার পরপরই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জরুরি সেবা বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস এবং উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আহতদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন। আশপাশের কয়েকটি ভবনেও আঘাত লাগে, যার ফলে বহু মানুষ আতঙ্কে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

একই এলাকায় একটি স্কুল ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। স্কুলের ভেতরে থাকা বোমা আশ্রয়কেন্দ্রের প্রবেশপথ ধসে পড়ায় সেখানে কয়েকজন আটকে পড়েন। এছাড়া শেভচেঙ্কো জেলার একটি ব্যবসাকেন্দ্রের নিচতলার আশ্রয়কেন্দ্রেও কয়েকজন আটকে আছেন বলে শহরের সামরিক প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

শহরের সামরিক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রাতভর চলা এই হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কিয়েভের বাইরে বৃহত্তর অঞ্চলেও হামলার প্রভাব পড়ে, যেখানে আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আঞ্চলিক গভর্নর।

আঞ্চলিক গভর্নর মাইকোলা কালাশনিক বলেন, শহরের বিভিন্ন অংশে একাধিক আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপরও আঘাত এসেছে। তিনি জানান, একটি স্কুল প্রাঙ্গণে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন ধরে যায়, যা পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

হামলার আগে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে সতর্কতা জারি করে সম্ভাব্য বড় ধরনের আক্রমণের ইঙ্গিত দিয়েছিল। তারা নাগরিকদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানায়। সতর্কতা অনুযায়ী, হামলায় বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রাশিয়া নতুন ধরনের মধ্যম-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে আরও বড় আকারের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সমন্বিত হামলার ঝুঁকি রয়েছে এবং জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

এই হামলা এমন এক সময় ঘটল, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উভয় পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলায় বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেসামরিক নাগরিকদের ঝুঁকিও ক্রমশ বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কিয়েভে বারবার এই ধরনের হামলা শুধু সামরিক নয়, মানবিক সংকটও গভীর করছে। আবাসিক ভবন, স্কুল এবং আশ্রয়কেন্দ্র লক্ষ্য করে আঘাত হানার ফলে সাধারণ মানুষের জীবন আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে শহর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।

ইউরোপীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার সামরিক অগ্রগতি কিছু এলাকায় সীমিত হলেও কৌশলগত হামলার মাধ্যমে চাপ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে ইউক্রেন বলছে, তারা নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করছে, তবে বড় আকারের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পুরোপুরি প্রতিহত করা এখনও চ্যালেঞ্জিং।

উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুদ্ধের এই নতুন অধ্যায়ে কিয়েভ আবারও পরিণত হয়েছে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রতিটি হামলার পরই শহরটি পুনর্গঠনের চেষ্টা করলেও বারবার আঘাতে বেসামরিক জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত