পদ্মা সেতুতে ঈদযাত্রায় টোল আদায়ের রেকর্ড

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬
  • ৯ বার

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রবেশপথ পদ্মা সেতুতে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন যানবাহনের চাপ। তবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক তৎপরতার কারণে বড় ধরনের যানজট ছাড়াই নির্বিঘ্নে চলেছে ঈদযাত্রা। এই সময়ে টোল আদায়েও নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ঈদযাত্রার গত ৫৮ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে বিপুল সংখ্যক যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং টোল আদায় হয়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকা। এই সময়সীমায় সেতুটি ব্যবহার করে হাজার হাজার মানুষ রাজধানী ঢাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাত্রা করেছেন।

সেতু কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে মোট ১৪ হাজারের বেশি যানবাহন পদ্মা সেতু পার হয়েছে। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্ত দিয়ে বেশি সংখ্যক গাড়ি পারাপার হয় এবং সেখান থেকেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টোল আদায় করা হয়েছে। অন্যদিকে জাজিরা প্রান্ত দিয়েও হাজার হাজার যানবাহন পার হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে যাত্রা করেছে।

ঈদযাত্রার চাপে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত ছিল ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে এবং সেতুর টোল প্লাজা এলাকা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। তবে অতিরিক্ত লেন চালু, পৃথক মোটরসাইকেল লেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনার কারণে বড় ধরনের কোনো যানজট তৈরি হয়নি।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদ মৌসুমে যাত্রীচাপ মোকাবিলায় আগেই বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। টোল প্লাজার সক্ষমতা বাড়ানো, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি নজরদারির ফলে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেছে।

ঈদযাত্রার এই চাপের মধ্যেও যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ দেখা গেছে। অনেক যাত্রী জানিয়েছেন, অতীতের তুলনায় এবার পদ্মা সেতু পারাপার অনেক বেশি দ্রুত ও সহজ হয়েছে। দীর্ঘ যানজট না থাকায় তারা নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।

সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ জানান, ঈদের সময় যানবাহনের চাপ সাধারণ সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তবে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার কারণে এই চাপও সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে পরিবর্তন এসেছে, ঈদযাত্রার এই পরিসংখ্যান তারই প্রমাণ। আগে যেখানে দীর্ঘ সময় ফেরিঘাটে অপেক্ষা করতে হতো, এখন সেখানে স্বল্প সময়ে সেতু পার হওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা অর্থনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এদিকে মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুরসহ সেতু সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কে রেকার, টহল টিম এবং নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে যাতে দুর্ঘটনা বা যানজট দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

ঈদযাত্রার এই চাপ আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।

সব মিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রা পদ্মা সেতুর ইতিহাসে অন্যতম ব্যস্ত সময় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যেখানে বিপুল যাত্রীর চাপ সামলেও সেতুটি তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত