প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে তেজাবী স্বর্ণের দামের পরিবর্তনের প্রভাবে নতুন করে দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এতে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। সাম্প্রতিক সমন্বয়ে প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে ২৫ মে সকাল ১০টা থেকে এবং বর্তমানে দেশের সব জুয়েলারি দোকানে এটি প্রযোজ্য রয়েছে।
একই সঙ্গে অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামও সমন্বয় করা হয়েছে। ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩২ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকায়।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণ বা পাকা স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার প্রভাব সরাসরি দেশের স্বর্ণের দামে পড়ছে বলে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে।
গত কয়েক মাস ধরেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ডলার বাজারের ওঠানামা এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝোঁক বৃদ্ধির কারণে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে। এর প্রভাব বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের বাজারেও পড়ছে।
এর আগে চলতি মাসেই ভালো মানের স্বর্ণের দাম কিছুটা কমানো হয়েছিল। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বারবার দাম পরিবর্তনের কারণে ক্রেতাদের মধ্যে অপেক্ষার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বর্ণের দাম শুধু বিনিয়োগ নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিয়ে ও উৎসব মৌসুমে স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যায়, ফলে দাম বাড়লে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।
বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করে বাজুস, যা আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিয়মিত সমন্বয় করে থাকে। সংগঠনটি জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই দাম কার্যকর থাকবে।
এদিকে স্বর্ণের দামের এই ঊর্ধ্বগতি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য চাপ তৈরি করলেও বিনিয়োগকারীদের একাংশ এটিকে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন। তবে ক্রেতারা বলছেন, স্থিতিশীল মূল্য নীতি না থাকলে বাজারে পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সব মিলিয়ে স্বর্ণের বাজারে চলমান এই অস্থিরতা আগামী দিনগুলোতে আরও নজরদারির মধ্যে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।