প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে আবারও দেখা দিয়েছে দরপতনের প্রবণতা। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সামান্য কমেছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন ট্রেডিং সূত্র। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক অগ্রগতির আশাবাদ তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে, যার প্রভাব সরাসরি জ্বালানি বাজারে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমার ইঙ্গিত পাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা সাময়িকভাবে হ্রাস পেয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance-এর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর বাজারে বড় ধরনের পতন হয়নি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দুই পক্ষ সমঝোতার কাছাকাছি থাকলেও এখনো চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হয়নি, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বজায় রেখেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম সামান্য হ্রাস পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলারের ঘরে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দামও কিছুটা কমেছে। বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই দরপতন খুব বড় নয়, বরং এটি একটি সীমিত সংশোধনমূলক পরিবর্তন।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দামের এই ওঠানামার পেছনে মূল কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি আলোচনা বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথকে ঘিরে যেকোনো অস্থিরতা বিশ্ববাজারে বড় ধাক্কা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শক্তি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতি আলোচনা যদি বাস্তব অগ্রগতির দিকে যায়, তাহলে আগামী সপ্তাহগুলোতে তেলের দাম আরও স্থিতিশীল হতে পারে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে বা নতুন করে সংঘাত তৈরি হলে বাজারে দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকিও রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের একাংশ বলছে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি “অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের” পর্যায়ে রয়েছে। বড় কোনো অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তেলের দামে বড় পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম।
এদিকে জ্বালানি সরবরাহ চেইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি এখনও সম্পূর্ণ স্থিতিশীল নয়। চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য, উৎপাদন হ্রাস বা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয়গুলো বাজারে প্রভাব ফেলছে।
সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম সামান্য কমলেও এটি এখনো অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক আলোচনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা—সবকিছু মিলিয়ে জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।