সর্বশেষ :
টেইলর সুইফটের প্রত্যাবর্তন: টয় স্টোরির গানে নস্টালজিক সুর ইউক্রেনের শহরগুলোতে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা, নিহত ১০ ইসলামের দৃষ্টিতে জাহান্নামিদের প্রধান তিনটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বললেন ট্রাম্প, লেবানন ইস্যুতে তীব্র ক্ষোভ শিশু রামিসা হত্যা: আদালতে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি বাবার ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল মতিঝিল হজ শেষে দেশে ফিরছেন হাজিরা, এ পর্যন্ত ৪২ জনের মৃত্যু ইথিওপিয়ার নির্বাচনে জয়ী হতে চলেছে আবি আহমেদের দল হিলি স্থলবন্দরের ফোরলেন সড়কের কাজ দ্রুত শুরুর আশ্বাস এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬: বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের সময় বাড়ল

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নতুন বাজেটে বড় পরিকল্পনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
  • ৫ বার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নতুন বাজেটে বড় পরিকল্পনা

প্রকাশ:  ২ জুন  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি ফেরাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে এবারের বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। নতুন সরকারের প্রথম বাজেট পেশের প্রাক্কালে এটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কবলে পড়ে দেশের উৎপাদন খাত যখন ধুঁকছে, তখন টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে একটি দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জ্বালানি খাতের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সম্পদের অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য উৎসের ওপর জোর দেওয়ার মধ্য দিয়ে একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নীতিনির্ধারকরা।

সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং এলপি গ্যাসের দামের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় যে চাপ সৃষ্টি করেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সীমানা যখন সংকুচিত হচ্ছে, তখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দামের নতুন ঘোষণা আতঙ্ক তৈরি করছে। তবে বাজেটের গাণিতিক হিসাবের বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষ এখন কেবল স্থিতিশীলতা ও নিরবচ্ছিন্ন সেবার প্রত্যাশায় দিন গুনছে। লোডশেডিংয়ের বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানি পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা এখন জনগণের প্রধান দাবি। অন্যদিকে, শিল্পখাতের উদ্যোক্তারা আশঙ্কা করছেন যে, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না হলে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে এবং সামগ্রিক উৎপাদন কমে যাবে।

এই প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বেশ কিছু যুগোপযোগী পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। নীতিনির্ধারকরা স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে ইরান-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের অস্থিরতা আমাদের জন্য আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি স্পষ্ট করেছে। তাই নতুন বাজেটে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নিজস্ব জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বিশেষ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের তলদেশে লুকিয়ে থাকা প্রাকৃতিক গ্যাসের বিপুল ভাণ্ডার ও খনিজ সম্পদের অনুসন্ধানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি বাজেট বক্তৃতায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ দৃঢ়কণ্ঠে জানিয়েছেন যে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ছাড়া দেশের শিল্পায়ন বা উৎপাদন বৃদ্ধি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তা অর্জনে বাজেটে বিশেষ দিকনির্দেশনা থাকবে। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ কেবল সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর করছে না, বরং এর জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাট ও কর ছাড়সহ বিভিন্ন ধরনের নীতিসহায়তা দেয়ার চিন্তাভাবনা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে আমাদের অবশ্যই সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রযুক্তির দিকে ধাবিত হতে হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, রুফটপ সোলার প্যানেলসহ পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারে সাধারণ মানুষকে সরাসরি উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বাজেটে এ খাতে সহজ শর্তে অর্থায়ন এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করা একান্ত প্রয়োজন। শুল্ক হ্রাসের ফলে সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির দাম কমলে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এই প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকবে, যা গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকেও উৎসাহিত করতে হবে।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম জ্বালানি খাতের অস্বচ্ছতা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তার মতে, তরল জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ধীরে ধীরে আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ফিরে আসতে হবে। তিনি পরামর্শ দেন যে, সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর সেবা যদি কোনোপ্রকার মুনাফা ছাড়াই গ্রাহকপর্যায়ে পৌঁছে দেয়া যায়, তবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপ অনেকটাই প্রশমিত হবে এবং সরকারকে ভর্তুকির বিশাল বোঝা বহন করতে হবে না। মুনাফামুখী ব্যবসার পরিবর্তে সেবামুখী মানসিকতা নিয়ে জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোকে পরিচালনা করা গেলে তা জনগণের জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনবে।

অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উৎপাদনশীল খাতের স্বার্থ রক্ষা করা এখন সরকারের জন্য এক কঠিন সমীকরণ। একদিকে জ্বালানি আমদানিতে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা নতুন বাজেটের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষ চায় এমন একটি বাজেট, যা তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখবে এবং নিশ্চিত করবে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সেবা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি খাতে অযৌক্তিক ব্যয় ও অপচয় রোধ করা না গেলে কেবল দাম বাড়িয়ে বা ভর্তুকি দিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। দুর্নীতির পথ বন্ধ করে সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।

পরিশেষে বলা যায়, নতুন সরকারের এই বাজেট কেবল একটি আর্থিক দলিল নয়, এটি একটি রূপকল্পও বটে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে, তা যেন কেবল কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। প্রযুক্তি ও নীতিসহায়তার সমন্বয়ে যদি নিজস্ব সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, তবেই দেশের শিল্পখাত ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা একটি টেকসই ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে। সরকারের সঠিক নীতিকৌশল এবং জনগণের ধৈর্য—এই দুইয়ের সমন্বয়েই হয়তো আমরা জ্বালানিনির্ভর এই সংকট থেকে মুক্তি পেয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সফল হবো। দেশজুড়ে এখন সবার দৃষ্টি—বাজেট বক্তব্যে জ্বালানি খাতের জন্য বরাদ্দ ও নতুন কৌশলগুলো কতটা বাস্তবসম্মত হয় এবং তা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কতটা সক্ষম।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত