সর্বশেষ :
লালমনিরহাট সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টা, বিজিবির কঠোর অবস্থান দরুদ পাঠের বিশেষ পাঁচটি সময়: পুণ্যের অনন্য সুযোগ তীব্র গরমে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া: প্রতিকারের ঘরোয়া উপায় দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: প্রাণ হারালেন কুমিল্লার নূরুল আমিন নাইট উপাধিতে ভূষিত ইদ্রিস এলবা: মানবিক কাজের অনন্য স্বীকৃতি হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল ঢাবি: ইনকিলাব মঞ্চের মশালমিছিল লেবাননে হামলা বন্ধের ডাক আইআরজিসির ভূরুঙ্গামারীতে অগ্নিকাণ্ড: ভস্মীভূত ৫০ দোকান, পথে ব্যবসায়ীরা পুঁজিবাজারে ফেরার ইঙ্গিত: বড় উত্থানে সপ্তাহের লেনদেন উত্তর কোরিয়া সফরে শি জিনপিং: কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

নিষেধাজ্ঞার কবলে কিউবার প্রেসিডেন্ট: বাড়ছে দুই দেশের উত্তেজনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬
  • ১০ বার
নিষেধাজ্ঞার কবলে কিউবার প্রেসিডেন্ট: বাড়ছে দুই দেশের উত্তেজনা

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ক্যারিবীয় সাগরের দ্বীপ রাষ্ট্র কিউবার ওপর ওয়াশিংটনের চাপ যেন বেড়েই চলেছে। সাম্প্রতিক এক নাটকীয় মোড়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল এবং তার স্ত্রী লিস কুয়েস্তা পেরাজাসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটে এই কঠোর সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসে, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। কয়েক দশক ধরে চলে আসা ওয়াশিংটন ও হাভানার মধ্যকার শীতল সম্পর্কের ইতিহাসে এটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা মাত্র, যেখানে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চেয়ে ক্ষমতার দাপটই বেশি দৃশ্যমান।

মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কিউবার অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতির অভাবকে সামনে আনা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কেবল কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং ল্যাটিন আমেরিকার রাজনীতিতে কিউবার প্রভাব খর্ব করার এক সুদূরপ্রসারী কৌশল। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেল ছাড়াও আরও চারজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তি এবং পাঁচটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই তালিকার অন্যতম বিতর্কিত অংশ হলো কিউবার ঐতিহাসিক কাস্ত্রো পরিবারের দুই সদস্য এবং দেশটির বিপ্লবী সশস্ত্রবাহিনী মন্ত্রণালয়। কিউবার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাত হানার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যেন সরাসরি কিউবার বর্তমান নেতৃত্বের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল।

নিষেধাজ্ঞা জারির পর মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন কিউবাকে একটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত দেশ হিসেবে দেখতে চায়। তার এই মন্তব্যের অন্তর্নিহিত অর্থ হলো কিউবার বর্তমান সমাজতান্ত্রিক কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনা, যা কিউবার জন্য সার্বভৌমত্বের সংকট হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ৬৬ বছর বয়সী মিগেল দিয়াজ-কানেল ২০১৮ সালে রাউল কাস্ত্রোর কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। তার শাসনামলে কিউবা যেমন অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে, তেমনি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর এই ভূ-রাজনৈতিক টানাপড়েনের প্রভাব পড়ছে সবচেয়ে বেশি, যা দীর্ঘমেয়াদে মানবিক সংকট তৈরি করছে।

মার্কিন এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কিউবা। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অত্যন্ত কড়া ভাষায় এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘জঘন্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, কিউবার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই হস্তক্ষেপের ঘটনা নতুন কিছু নয়, তবে এটি তাদের পুরোনো সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতারই প্রতিফলন। রদ্রিগেজের ভাষায়, দুই দেশের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র যত ধরনের পদক্ষেপই গ্রহণ করুক না কেন, তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। কিউবান সরকারের এই অটল অবস্থান বিশ্বজুড়ে দুই মেরুর রাজনীতির চিরচেনা চিত্রকেই তুলে ধরছে।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কিউবার নেতাদের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ প্রয়োগের এই নীতি নতুন নয়। এর আগেও গত মাসে কিউবার যোগাযোগমন্ত্রী, বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা এবং দেশটির প্রধান গোয়েন্দা সংস্থার ১১ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। এছাড়া ১৯৯৬ সালের একটি বিমান ভূপাতিত করার পুরোনো ঘটনার জেরে সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও বিষাক্ত করে তুলেছে। দুই দেশের এই বৈরিতা যে কেবল নীতিনির্ধারকদের কক্ষেই সীমাবদ্ধ নেই, তা সাধারণ কিউবানদের নিত্যদিনের জীবন যাপন দেখলেই বোঝা যায়। একদিকে খাদ্য ও জ্বালানি সংকট, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমাগত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আতঙ্ক—সব মিলিয়ে কিউবার বর্তমান পরিস্থিতি এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিউবা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশল মূলত একটি ‘প্রেসার কুকার’ পরিস্থিতি তৈরি করছে। নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা অতীতে খুব একটা সফল হয়নি, বরং অনেক ক্ষেত্রে তা জনমনে জাতীয়তাবাদের আবেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। কিউবার মানুষ যখন অর্থনৈতিক অভাব-অনটনে জর্জরিত, তখন নিষেধাজ্ঞার এই বোঝা তাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, কারণ প্রতিটি নিষেধাজ্ঞা সরাসরি গিয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনে।

এখন দেখার বিষয় হলো, কিউবা সরকার এই নতুন নিষেধাজ্ঞার মোকাবিলায় কী ধরনের কূটনৈতিক চাল চালবে। তারা কি নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকবে, নাকি আলোচনার পথ প্রশস্ত করার জন্য কোনো ছাড় দেওয়ার ঝুঁকি নেবে? অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন যদি এই চাপের পথেই অটল থাকে, তবে দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের আগুন আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ল্যাটিন আমেরিকার এই দ্বীপ রাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞা কেবল দুই দেশের সীমান্তেই আটকে থাকবে না, বরং তা বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণকেও নতুন করে সাজাতে বাধ্য করবে। আপাতত কিউবার প্রেসিডেন্ট এবং তার প্রশাসনের জন্য এটি একটি চরম অগ্নিপরীক্ষার সময়, যেখানে তাদের জাতীয় অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত