সর্বশেষ :
লালমনিরহাট সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টা, বিজিবির কঠোর অবস্থান দরুদ পাঠের বিশেষ পাঁচটি সময়: পুণ্যের অনন্য সুযোগ তীব্র গরমে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া: প্রতিকারের ঘরোয়া উপায় দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: প্রাণ হারালেন কুমিল্লার নূরুল আমিন নাইট উপাধিতে ভূষিত ইদ্রিস এলবা: মানবিক কাজের অনন্য স্বীকৃতি হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল ঢাবি: ইনকিলাব মঞ্চের মশালমিছিল লেবাননে হামলা বন্ধের ডাক আইআরজিসির ভূরুঙ্গামারীতে অগ্নিকাণ্ড: ভস্মীভূত ৫০ দোকান, পথে ব্যবসায়ীরা পুঁজিবাজারে ফেরার ইঙ্গিত: বড় উত্থানে সপ্তাহের লেনদেন উত্তর কোরিয়া সফরে শি জিনপিং: কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি হবেই: আশাবাদী ডোনাল্ড ট্রাম্প

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬
  • ৪ বার
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি হবেই: আশাবাদী ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশ:  ০৫ জুন  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বের দুই বৃহৎ গণতান্ত্রিক অর্থনীতির দেশ ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে সেই সম্ভাবনার সুর স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প সরাসরি জানিয়েছেন যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের রসায়ন এবং দুদেশের বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্কের সুবাদে খুব দ্রুতই একটি অর্থবহ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ চার দিনের আলোচনা সদ্য সমাপ্ত হয়েছে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা অমীমাংসিত বাণিজ্য ইস্যুগুলোতে এক ধরণের নতুন গতি সঞ্চারের ইঙ্গিত মিলছে।

বাণিজ্যিক কূটনীতির জটিল গোলকধাঁধায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বরাবরই তার সুর চড়া রেখেছেন। ভারতের উচ্চ শুল্ক নীতির কারণে মার্কিন কোম্পানিগুলোর ব্যবসা করার ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে ট্রাম্পের অসন্তোষ পুরোনো। বিশেষ করে মার্কিন মোটরসাইকেল জায়ান্ট হার্লি-ডেভিডসনের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প অতীতে ভারতের শুল্ক কাঠামোর সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, ভারতের আকাশচুম্বী শুল্কের কারণে মার্কিন মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারকরা দেশটিতে তাদের পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত তাদের কারখানা স্থাপনে বাধ্য করেছে। ট্রাম্পের ভাষায়, এটি একতরফা বাণিজ্যের উদাহরণ, যেখানে ভারত সুবিধা পেয়েছে কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তার বিনিময়ে কিছুই পায়নি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, এটি তার দায়িত্ব গ্রহণের আগের পরিস্থিতি ছিল এবং বর্তমান পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তিনি ভারসাম্য আনার জন্য বদ্ধপরিকর।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও সাম্প্রতিক আলোচনা সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আলোচনাগুলো পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বাস্তববাদী মনোভাবের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে। উভয় দেশই একটি অভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ, যা কেবল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নয়, বরং দুই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককেও এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বাণিজ্য চুক্তিটি কেবল পণ্যের আদান-প্রদান নয়, বরং এটি ভূ-রাজনৈতিক কৌশল এবং বিশ্ব বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করার একটি বড় উপায়। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যের অবাধ প্রবেশ এবং ভারতের বাজারে মার্কিন বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করাই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য।

বাণিজ্য চুক্তির এই পথ অবশ্য সবসময় কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রাম্প ও মোদির টেলিফোন আলোচনার পর একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো চূড়ান্ত হয়েছিল, যেখানে শুল্ক কমানোর বিষয়ে সমঝোতার আশা দেখা গিয়েছিল। তবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় এবং পরবর্তীতে ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের কারণে সেই প্রক্রিয়া কিছুটা থমকে যায়। ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় শুল্ক ব্যবস্থা নিয়ে আইনি জটিলতা এবং বিশ্বজুড়ে ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে সাময়িক অস্বস্তি তৈরি করেছিল। কিন্তু সেই বাধা কাটিয়ে নতুন করে আলোচনার টেবিলে বসা প্রমাণ করে যে, দুই দেশের নেতৃত্বই অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব চায়।

মানবিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে, এই চুক্তিটি সাধারণ মানুষ এবং কর্মসংস্থানের জন্য এক বড় মাইলফলক হতে পারে। ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশে মার্কিন বিনিয়োগের সুযোগ বাড়লে যেমন কর্মসংস্থান তৈরি হবে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্য প্রবেশের সুযোগ বাড়লে তা ভারতের রপ্তানি আয়কে সমৃদ্ধ করবে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ভারত থেকে বাণিজ্য করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এখন অনেক অর্থ উপার্জন করছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্যের দিকেই ইঙ্গিত করে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক নিয়ে দর কষাকষি অব্যাহত রয়েছে, তবুও দুই নেতার দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক যেকোনো কঠিন সমস্যার সমাধানে আশার আলো দেখাচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই স্পষ্ট। দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের কাছে এখন চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি তৈরি করা, যা জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার পাশাপাশি পারস্পরিক বাজারের পরিধিকে প্রসারিত করবে। বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন অনিশ্চয়তা বাড়ছে, তখন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী দেশগুলোর পারস্পরিক বাণিজ্য সহযোগিতা কেবল তাদের নিজেদের জন্যই নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্যও অপরিহার্য। ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাস এবং নরেন্দ্র মোদির কূটনৈতিক প্রজ্ঞা শেষ পর্যন্ত এই বাণিজ্য চুক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে পারবে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। তবে এটি স্পষ্ট যে, আলোচনার টেবিল থেকে যে সমাধানই বেরিয়ে আসুক না কেন, তা দুই দেশের বন্ধুত্বের ভিত্তিকে আরও মজবুত করবে এবং আগামীর দিনগুলোতে বাণিজ্যিক সহযোগিতার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত