নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন আজ বিকেলে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
  • ৫ বার

প্রকাশ: ০৭ জুন  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে আজ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন বসছে বিকেলে। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এটিই বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন। ফলে দেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন পরিকল্পনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা জানতে সবার নজর এখন জাতীয় সংসদের দিকে।

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন হিসেবে আজ রোববার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনে অধিবেশন শুরু হবে। অধিবেশনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এবারের বাজেট অধিবেশন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে কয়েকটি কারণে। প্রথমত, এটি নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট অধিবেশন। দ্বিতীয়ত, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে সরকার আগামী অর্থবছরের জন্য কী ধরনের আর্থিক পরিকল্পনা গ্রহণ করছে তা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। ব্যবসায়ী মহল, বিনিয়োগকারী, অর্থনীতিবিদ এবং সাধারণ নাগরিক সবাই প্রস্তাবিত বাজেটের দিকে তাকিয়ে আছেন।

জানা গেছে, আগামী ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট সংসদে উপস্থাপন করতে পারেন। নতুন সরকারের প্রথম বাজেট হওয়ায় এতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক প্রতিফলিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাজেট প্রণয়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে রাজস্ব আয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। অন্যদিকে জনগণের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ সৃষ্টি না করেও উন্নয়ন ব্যয় অব্যাহত রাখার প্রশ্ন রয়েছে। ফলে অর্থমন্ত্রীর উপস্থাপিত বাজেট দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ৭ মে এই অধিবেশন আহ্বান করেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা আহ্বানপত্রের মাধ্যমে বাজেট অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হয়। সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় জাতীয় বাজেট উপস্থাপন এবং তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হয়।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন গত ৩০ এপ্রিল সমাপ্ত হয়। ওই অধিবেশন ছিল বেশ কর্মব্যস্ত। সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম অধিবেশনে মোট ২৫ কার্যদিবস অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ৯৪টি বিল পাস করা হয়। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্য বলে মনে করছেন সংসদীয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন বাজেট অধিবেশন শুধু অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংসদ সদস্য দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা, বাজার পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্য, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং সরকারি নীতিমালা নিয়েও আলোচনা করতে পারেন। ফলে অধিবেশনটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও এবার অনেক বেশি। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের দাম, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ নিয়ে জনগণের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এসব বিষয়ে সরকারের অবস্থান এবং পরিকল্পনা বাজেটের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতীয় সংসদের এই বাজেট অধিবেশনের মাধ্যমে আগামী অর্থবছরের আর্থিক কর্মপরিকল্পনা, উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং অর্থনৈতিক কৌশল সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তাই রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পখাত এবং সাধারণ জনগণ পর্যন্ত সবার দৃষ্টি এখন সংসদ ভবনের দিকে নিবদ্ধ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত