প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে সীমান্তে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দীন আহমদের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে “অত্যন্ত আপত্তিকর ও অপমানজনক” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি অবিলম্বে ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) দিবাগত রাত ১টায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সরকারের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এমন বক্তব্য জাতির জন্য লজ্জাজনক এবং উদ্বেগজনক।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সীমান্ত হত্যা বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার তিন দিন পার হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দীন আহমদ তার বক্তব্য প্রত্যাহার করেননি। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিন্দা জানানো হয়নি। তার মতে, এ কারণে ধরে নিতে হয় যে এই বক্তব্যই সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থানকে প্রতিফলিত করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত হত্যা বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা মূলত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত “বর্ডার কিলিং” ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার ভাষায়, সীমান্তে কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনীর গুলি করে হত্যা করা হলে সেটিকে “বর্ডার কিলিং” বলা হবে কি না—এমন প্রশ্ন তোলাই সমস্যাজনক এবং মানবাধিকার পরিপন্থী অবস্থানকে ইঙ্গিত করে।
বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি মানুষের জীবনধারণের অধিকার মৌলিক এবং রাষ্ট্র সেই অধিকার রক্ষায় বাধ্য। একই সঙ্গে জাতিসংঘের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের নীতিমালার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার কেবল তখনই বৈধ, যখন জীবন রক্ষার আর কোনো বিকল্প থাকে না।
তার মতে, সীমান্তে চোরাচালান বা অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো অপরাধ দমনে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। তাই এ ধরনের ঘটনাকে স্বাভাবিক বা বৈধ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
নাহিদ ইসলাম অতীত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, সীমান্ত হত্যা নিয়ে আগেও সরকারের পক্ষ থেকে বিতর্কিত অবস্থান দেখা গেছে। তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ও এমন বক্তব্য এসেছে, যা ভারতের প্রতি “নতজানু নীতি”র প্রতিফলন হিসেবে সমালোচিত হয়েছিল। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের অবস্থান গ্রহণ গভীর উদ্বেগের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণ একটি ভিন্ন ও দায়িত্বশীল শাসন কাঠামো প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু সীমান্ত হত্যার মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিতর্কিত অবস্থান সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিবৃতির শেষে নাহিদ ইসলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অবস্থান জানানোর দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে সীমান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে কার্যকর কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সীমান্ত হত্যা ইস্যু নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বারবার এই ঘটনাগুলোর স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি জানিয়ে আসছে। সর্বশেষ এই বক্তব্য ঘিরে বিষয়টি আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।