সর্বশেষ :
কলকাতা থেকে পরিচালিত অপারেশন: আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ছক দেউলিয়া থেকে ডাটা কিং: রবিন খুদার AirTrunk সাম্রাজ্যের ওয়াল স্ট্রিট গল্প আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ সংসদে ১১ জুন পেশ হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ইউনূস ও নূরজাহানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন: আদেশ অপেক্ষমাণ জেলায় জেলায় ভুয়া কমিটি নিয়ে বিএনপির সতর্কবার্তা আইনি লড়াই শেষে কাজে ফিরছেন অভিনেতা কিম সু-হিউন লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি হানিফ আমিনবাজার ভূমি অফিসে অনুপস্থিত কর্মকর্তা, প্রতিমন্ত্রীর ক্ষোভ ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহক ফোরামের কলমবিরতি: অচলাবস্থায় সেবা কার্যক্রম

ইউনূস ও নূরজাহানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন: আদেশ অপেক্ষমাণ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
  • ১১ বার
ইউনূস ও নূরজাহানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন: আদেশ অপেক্ষমাণ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শিশুর জন্মের পর তার সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু সেই সুরক্ষায় যখন গাফিলতি হয়, তখন তার মূল্য দিতে হয় অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে। হাম ও রুবেলার মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগের টিকা সময়মতো আমদানি না করার ফলে দেশের শিশুদের জীবনকে ভয়াবহ ঝুঁকিতে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে এবার আইনি কাঠগড়ায় দাঁড়ালেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ পাঁচজন শীর্ষ কর্মকর্তা। সোমবার ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এই চাঞ্চল্যকর মামলার আবেদন করা হয়েছে। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে শুনানি শেষে পরবর্তী আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন।

মামলার বাদী কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল তার আরজিতে উল্লেখ করেছেন যে, এটি কেবল প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং এটি একটি চরম অপরাধমূলক অবহেলা। মামলার অন্য অভিযুক্তরা হলেন সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর। বাদীর অভিযোগ, একটি সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়ায় শিশুদের জীবন রক্ষার এই অত্যাবশ্যকীয় কার্যক্রমকে ব্যাহত করা হয়েছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অকাল মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, বাংলাদেশে শিশু জন্মের পর সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে হাম ও রুবেলার টিকা বাধ্যতামূলক ও নিয়মিতভাবে প্রদান করা হয়ে থাকে। ইউনিসেফের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ও সফল এই টিকা আমদানি প্রক্রিয়াটি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পরিবর্তে ওপেন টেন্ডার বা উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় টিকা আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এই পরিবর্তনটি ছিল অত্যন্ত ধীরগতির। দীর্ঘ দেড় বছর সময়ক্ষেপণ করার ফলে দেশে টিকার তীব্র সংকট দেখা দেয়, যা শেষ পর্যন্ত একটি জাতীয় স্বাস্থ্য বিপর্যয়ে রূপ নেয়।

এই অবহেলার ভয়াবহতা কতটা গভীর ছিল, তা ফুটে উঠেছে ইউনিসেফের একটি চিঠির মাধ্যমে। মামলার অন্যতম সাক্ষী ও ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, টিকার সম্ভাব্য সংকটের বিষয়ে তৎকালীন সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগকে পাঁচ থেকে ছয়টি চিঠির মাধ্যমে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। এমনকি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য আমদানি প্রক্রিয়া বন্ধ না করার জোরালো অনুরোধও জানানো হয়েছিল। কিন্তু আসামিরা ক্ষমতার দম্ভে ও চরম দায়সারা মনোভাব দেখিয়ে সেই সতর্কবার্তাগুলোকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেননি। এই অবহেলাকেই মামলার বাদী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

সরকারি তথ্যমতেই গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে প্রায় ৭৫ হাজার ৭০৮ জন শিশু। অভাবের তাড়নায় পর্যাপ্ত টিকা না পেয়ে দেশের প্রায় ৬১০ জন কোমলমতি শিশু মৃত্যুবরণ করেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ৭৫ হাজার ৭০০ শিশু শারীরিকভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের অকাল মৃত শিশুদের তালিকা ও তাদের মৃত্যুর বর্ণনা মামলার নথিতে যোগ করা হয়েছে, যা আদালত কক্ষকে শোকাতুর ও ভারী করে তুলেছিল। ফাইয়াজ হাসান তাজিম, আবদুল্লাহ আল ফাহিম এবং আবদুল্লাহ আল নোমানের মতো শিশুদের মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি অবহেলার কাঠামোর চূড়ান্ত পরিণতি।

বাদী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল আবেগজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, বিগত সরকার বর্তমান সরকারকে বিপদে ফেলার এক হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। তার নিজের নির্বাচনী এলাকাতেও অনেক শিশু এই টিকার অভাবে মারা গেছে। এই মৃত শিশুদের আত্মার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে তিনি ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। মামলার আরজিতে তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে তাদের জেলহাজতে প্রেরণের আবেদন করেছেন যাতে করে তারা প্রভাব খাটিয়ে তদন্তকে প্রভাবিত করতে না পারেন।

থানা পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে আদালতের শরণাপন্ন হতে পরামর্শ দেওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দিকে তাকিয়ে আছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা এই মামলাটি দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। রাষ্ট্র এবং জননিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন হতে পারে, এই মামলার রায় তার উত্তর বহন করবে। আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য এই বিচারপ্রক্রিয়া এখন দেশবাসীর মনোযোগের কেন্দ্রে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, শিশুদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। টিকা আমদানি বিলম্বিত করার পেছনে প্রকৃত কারণ কী ছিল এবং কেন সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—তা তদন্তের মাধ্যমে বের হয়ে আসা জরুরি। বিচারক জশিতা ইসলাম এই স্পর্শকাতর মামলার আবেদনটি গ্রহণ করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন। দেশের সাধারণ মানুষ এখন ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে, যাতে করে ভবিষ্যতে কোনো শিশু আর টিকার অভাবে বা সরকারি অবহেলায় মৃত্যুর কোলে ঢলে না পড়ে। এই মামলার রায় একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে কিছুটা হলেও সান্ত্বনা দেবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত