সর্বশেষ :
কলকাতা থেকে পরিচালিত অপারেশন: আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ছক দেউলিয়া থেকে ডাটা কিং: রবিন খুদার AirTrunk সাম্রাজ্যের ওয়াল স্ট্রিট গল্প আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ সংসদে ১১ জুন পেশ হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ইউনূস ও নূরজাহানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন: আদেশ অপেক্ষমাণ জেলায় জেলায় ভুয়া কমিটি নিয়ে বিএনপির সতর্কবার্তা আইনি লড়াই শেষে কাজে ফিরছেন অভিনেতা কিম সু-হিউন লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি হানিফ আমিনবাজার ভূমি অফিসে অনুপস্থিত কর্মকর্তা, প্রতিমন্ত্রীর ক্ষোভ ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহক ফোরামের কলমবিরতি: অচলাবস্থায় সেবা কার্যক্রম

কলকাতা থেকে পরিচালিত অপারেশন: আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ছক

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
  • ৫০ বার

প্রকাশকাল: ৮ই জুন ২০২৬ | একটি বাংলাদেশ অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উগ্রবাদী হামলার নাটক মঞ্চস্থ করতে দেশের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তাদের সহায়ক শক্তি এক সুপরিকল্পিত নীলনকশা আঁটছে বলে গভীর উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমান সরকার প্রধানের প্রথম বিদেশ সফরের প্রাক্কালে তারা এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চাইছে যেন দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিতর্কিত হয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়। নিষিদ্ধ গোষ্ঠী ও তাদের সহযোগীদের প্রচেষ্টার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মিতব্য রামচন্দ্র মূর্তিকে কেন্দ্র করে হিন্দু-মুসলিম সংঘাত সৃষ্টি করা এবং মুসলিম কর্তৃক হিন্দুদের উপর আক্রমণের জন্য উস্কানি প্রদান করা। সাম্প্রতিক সময়ে এসব বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় টার্গেটেড প্রোপাগান্ডা চলমান রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সহিংসতা উসকে দেওয়ার জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তাদের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেন বাংলাদেশে আবারও জঙ্গি তৎপরতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে একটি ন্যারেটিভ আন্তর্জাতিক মহলে প্রতিষ্ঠা করা যায়। এর মাধ্যমে তারা একদিকে যেমন নির্বাচিত সরকারকে বহির্বিশ্বে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি করতে চাইছে, অন্যদিকে তেমনি নিজেদের পুনর্বাসনের পথও সহজ করতে চাইছে। নিষিদ্ধ গোষ্ঠী ও তাদের সহায়ক শক্তি এ সকল হামলার ঘটনা বাস্তবায়নে সফল হলে বাংলাদেশে তাদের পুনর্বাসন সহজতর হবে, নির্বাচিত সরকারকে বহির্বিশ্বে অত্যন্ত বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি করার পাশাপাশি বাংলাদেশে আবার জঙ্গি তৎপরতা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে এহেন ন্যারেটিভ স্থাপন করা সহজ হবে, এমনটাই তারা আশা করছে।

এই চক্রান্তের আওতায় তারা কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানকে টার্গেট করে পরিকল্পনা সাজিয়েছে। যেসব স্থানে হামলার পরিকল্পনা রয়েছে সেগুলো হলো রংপুরের রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশন, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মিতব্য রামচন্দ্র মূর্তি, বগুড়া জেলার অন্তর্গত বিভিন্ন হিন্দু পাড়া, ভবানীপুর শেরপুর এলাকা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামে হিন্দুধর্মালম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা।

যেসকল ব্যক্তিবর্গ এই সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মূল ভূমিকা রাখছেন, তাদের কয়েকজনের নাম জানা গেছে। প্রথমত, দেশের বাইরে অবস্থান করে সম্ভাব্য কলকাতায় যুবলীগের জনৈক নেতা সুভাষ এই চক্রান্তের সাথে জড়িত রয়েছেন। দ্বিতীয়ত, ফিরোজুর রহমান অলিউ, যিনি ইরাম, পিকক ও ড্রাগন বারের মালিক এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম উদ্যোক্তা ও পরিচালক, তিনিও এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তৃতীয়ত, ফিরোজুর রহমান অলিউ এর মেজ ছেলে হিরাও পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে এই পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছেন বলে জানা যায়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, একটি বিশেষ রাষ্ট্রের কূটনীতিকদের সঙ্গে এই চক্রের যোগসাজশের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তথ্যানুযায়ী, ওই বিশেষ রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও তথ্য কূটনীতিবিদ, কনস্যুলার এবং শিক্ষা কূটনীতিবিদ এবং ডেপুটি হাই কমিশনারের সাথে একটি ধর্মীয় সংগঠনের কমিটি সভাপতির একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। এছাড়াও, পরিচয় গোপন করে স্পর্শকাতর স্থাপনা ও এলাকায় বিদেশি কূটনীতিকদের বিচরণের ঘটনাও নজর কেড়েছে। এসব ঘটনার সাথে উল্লিখিত চলমান চক্রান্তের সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা অস্বাভাবিক হবে না। বিশেষ করে যে রাষ্ট্রটির কূটনীতিকদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নাক গলানোর অভিযোগে অভিযুক্ত। এই চক্রান্তের সফল বাস্তবায়নে তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশঙ্কা করছে।

দেশের বিভিন্ন জেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ও তাদের সহযোগীদের বিক্ষিপ্ত মিছিল ঘিরে চিহ্নিত কিছু গণমাধ্যমের কার্যক্রমও উদ্বেগজনক। তথ্যানুযায়ী, এসব ঘটনা কাভার করতে গিয়ে কিছু গণমাধ্যম এমনভাবে সংবাদ পরিবেশন করছে যা সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে যেন উৎসাহিত করে। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্লিপ্ততা এই ধরনের শঙ্কা সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। এছাড়াও, বিভিন্ন স্তরে থাকা নিষিদ্ধ সংগঠন সমর্থক কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকি স্বরূপ। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে থাকা এসব কর্মকর্তা তাদের অবস্থান ব্যবহার করে চক্রটিকে পরোক্ষ সহায়তা দিতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা।

উল্লেখ্য, কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স মেন’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে আল জাজিরা, যাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তৎকালীন প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়। ওই প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ সরকার ও আওয়ামী লীগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল। পরে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আল জাজিরার অনুসন্ধানী ইউনিট ‘হাসিনা: ৩৬ ডেজ ইন জুলাই’ শীর্ষক আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যাতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছাত্র আন্দোলন দমনের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এই প্রতিবেদনের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, হত্যার নির্দেশ দেওয়া এবং সংঘাত উসকে দেওয়ার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন।

এখন আবার আল জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ ও তাদের সহায়ক শক্তি দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তবে এটিও উল্লেখ্য যে এর আগে আল জাজিরার নাম ব্যবহার করে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে জরিপের মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয়েছিল, যা রিউমর স্ক্যানার ভুয়া বলে চিহ্নিত করেছিল।

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই চক্রান্ত সফল হলে বাংলাদেশের জন্য তা মারাত্মক ক্ষতিকর হবে। একটি সফল উগ্রবাদী হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে স্থান পাবে এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে, পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চক্রান্তের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ দুটি উদ্দেশ্য সফল করতে চায়। প্রথমত, তারা দেশের বর্তমান স্থিতিশীল অবস্থাকে অস্থিতিশীল করে নিজেদের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করতে চাইছে। দ্বিতীয়ত, সরকারকে বিব্রত করে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করে নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে চাইছে।

এহেন পরিস্থিতিতে সরকারের যথাযথ মহলের প্রতি অনুরোধ, নিরাপত্তা সংস্থাসমূহের সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। বিশেষ করে চিহ্নিত স্থানগুলোতে নজরদারি বাড়ানো এবং সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ও উস্কানিমূলক পোস্ট নজরদারিতে রাখা এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে থাকা নিষিদ্ধ সংগঠন সমর্থক কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। বিদেশি কূটনীতিকদের গতিবিধি সম্পর্কে কঠোর নজরদারি বাড়ানো এবং কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যকলাপে লিপ্ত হলে কঠোর প্রতিবাদ জানানো উচিত। সবশেষে, সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান, গুজব ও উস্কানিমূলক কথায় কান না দিয়ে দেশের স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করা। দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে আমাদের সবার দায়িত্ব, যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জননিরাপত্তা রক্ষা করা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত