সরকারকে ব্যর্থ দেখাতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ ইশরাকের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
  • ৩৩ বার
সরকারকে ব্যর্থ দেখাতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ ইশরাকের

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে কিছু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, একটি নতুন সরকারকে মূল্যায়ন করার জন্য যেখানে ন্যূনতম ছয় মাস সময় প্রয়োজন, সেখানে মাত্র ১০০ দিনের মাথায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তার দাবি, বিগত ১৭ বছরের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকারকে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কঠিন দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীর সূত্রাপুর কমিউনিটি সেন্টারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র সহায়তা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যের শুরুতেই ইশরাক হোসেন বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তবে সেই প্রত্যাশা পূরণে সময় ও বাস্তবসম্মত মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের সরকার গঠন করার মাত্র ১০০ দিন পার হয়েছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও একটি সরকারকে মূল্যায়ন করতে অন্তত ১৮০ দিন বা ছয় মাস সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিগত ১৭ বছর ধরে রাষ্ট্রকে এমনভাবে ধ্বংস ও ভঙ্গুর করা হয়েছে যে, সবকিছু গুছিয়ে আনতে সময় লাগছে। অথচ আমাদের কিছু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এখনই সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণের চেষ্টা করছে। মূলত রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্যই তারা এমন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।”

প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের প্রায় প্রতিটি খাতে দলীয়করণ করা হয়েছে এবং এর ফলে প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি দাবি করেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতি থেকে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের প্রায় পাঁচ বছরের জাতীয় বাজেটের সমপরিমাণ। তার মতে, এই আর্থিক ক্ষতির প্রভাব দেশের উন্নয়ন ও জনগণের জীবনযাত্রায় গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে ভোট দিয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের বিপুল সমর্থন দিয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সংসদের ৩০০ সদস্যের মধ্যে ২১৭ জনই নতুন মুখ। এমনকি প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং তিনি নিজেও প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন, “নতুন হওয়াটা আমাদের দুর্বলতা নয়, বরং আমরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় আমরা আরও বেশি শক্তিশালী ও জোরালো।”

রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৮০০টি অসমাপ্ত ও মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। সেই সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রকল্পগুলোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরার চেষ্টা করলে প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন।

ইশরাক হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সেখানে বলেন, “আপনারা যদি সব সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে আপনারাই দেশ চালান, আমরা বাইরে চলে যাই। কারণ আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। প্রতিটি বর্ধিত বাজেটের জবাব আমাদের দিতে হবে।” প্রতিমন্ত্রীর মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই দৃঢ় অবস্থান নতুন মন্ত্রীদের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার কোনো “রাবার স্ট্যাম্প সরকার” নয় এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিতার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে মাদকের বিস্তারকে তিনি একটি জাতীয় সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দিয়ে ভারত থেকে ড্রোনের মাধ্যমে মাদক দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সূত্রাপুর, কোতোয়ালি ও গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী কিংবা মাদকসেবীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তারা যে দলের পরিচয়ই ব্যবহার করার চেষ্টা করুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি নির্দেশনা দিয়ে বলেন, মাদক কারবারিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দ্রুত জামিনের সুযোগ বন্ধে আইন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক জীবনের ব্যক্তিগত দিক নিয়েও কথা বলেন ইশরাক হোসেন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি দাবি করেন, রাজনীতিতে তার কোনো ধরনের আর্থিক দুর্নীতি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা নেই। জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর অঙ্গীকার করে তিনি জানান, আগামী সপ্তাহ থেকে তিনি নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ড, সড়ক ও মহল্লায় নিজে গিয়ে মানুষের সমস্যার কথা শুনবেন এবং নাগরিক সুবিধা তদারকি করবেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে স্থানীয় দুস্থ, অসহায় ও মেহনতি মানুষের মাঝে তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ করা হয়। সহায়তা পেয়ে অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এ ধরনের মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে বিতর্ক চলমান থাকলেও রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি বাস্তব পদক্ষেপই শেষ পর্যন্ত জনগণের মূল্যায়নের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। নতুন সরকারের সামনে যেমন দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক সংকট মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তেমনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে আস্থা ধরে রাখাও বড় দায়িত্ব। আর সেই প্রেক্ষাপটে ইশরাক হোসেনের বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত