মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২০০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • ১৩ বার
মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২০০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের শিল্পায়ন, রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এনএসইজেড) নতুন করে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক এবং ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশীয় শিল্পখাত যেমন নতুন গতি পাবে, তেমনি ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) জানিয়েছে, মিরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হবে এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের বিশেষায়িত শিল্প ক্লাস্টার। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। গত রোববার বেজার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে এবং শিল্পায়নের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন এই কারখানায় আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন করা হবে। উৎপাদন তালিকায় থাকবে বৈদ্যুতিক তার, বিভিন্ন মডেলের সুইচ ও সকেট, সিলিং ও এক্সহস্ট ফ্যান, এলইডি লাইট, সার্কিট ব্রেকারসহ আধুনিক বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। এসব পণ্যের মাধ্যমে একদিকে দেশের ক্রমবর্ধমান বাজার চাহিদা পূরণ করা হবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, আবাসন খাতের সম্প্রসারণ এবং শিল্পকারখানার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বাস্তবতায় দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি স্থানীয় শিল্প আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বেজা জানায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এবং এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের মধ্যে ভূমি লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির পর বেজার প্রণীত উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুসরণ করে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর ২০২৯ সালের জানুয়ারি থেকে কারখানাটির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হলে প্রায় দুই হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে শুধু দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদই নয়, উৎপাদন, প্রশাসন, সরবরাহ ব্যবস্থা, বিপণন এবং বিভিন্ন সহায়ক খাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, পরিবহন খাত এবং সেবা খাতও এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ইতিবাচকভাবে উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার বলেন, তাঁদের লক্ষ্য শুধু দেশীয় বাজারে মানসম্মত বৈদ্যুতিক পণ্য সরবরাহ করা নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের পণ্যের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা। তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং বৈশ্বিক বাজারে দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কারখানাটি পরিচালিত হবে। ফলে উৎপাদিত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড পূরণ করতে সক্ষম হবে এবং ভবিষ্যতে রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের পরিচালক শকিল আলম চাকলাদার, ফাহিম আলম চাকলাদার এবং প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মিরসরাই জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় শিল্পাঞ্চলগুলোর একটি। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর, কক্সবাজার, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং ভবিষ্যৎ গভীর সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ সুবিধার কারণে এই অঞ্চল দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। ফলে এখানে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে দেশের উৎপাদন সক্ষমতা এবং রপ্তানি সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

সরকার শিল্পায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে। এসব অঞ্চলে আধুনিক অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, গ্যাস, সড়ক যোগাযোগ এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালার কারণে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন। মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল সেই পরিকল্পনার অন্যতম বড় প্রকল্প হিসেবে ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক শিল্প বর্তমানে বিশ্ববাজারের দ্রুত সম্প্রসারণশীল খাতগুলোর একটি। বাংলাদেশ যদি এই খাতে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারে, তবে তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি নতুন রপ্তানি খাত হিসেবে বৈদ্যুতিক পণ্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এমইপি হাই-টেকের এই বিনিয়োগ সেই সম্ভাবনাকে আরও বাস্তব রূপ দেওয়ার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

মিরসরাইয়ে ২০০ কোটি টাকার এই নতুন শিল্প বিনিয়োগ শুধু একটি কারখানা নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের বৃহত্তর লক্ষ্যের অংশ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শিল্পপণ্যের গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত