বাজুসের নতুন ঘোষণা, আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • ৪ বার
বাজুসের নতুন ঘোষণা, আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের স্বর্ণবাজারে মূল্য ওঠানামার ধারাবাহিকতায় আবারও বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। কয়েক দিন আগেই এক দফা দাম কমানোর পর এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা, যা সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য, স্থানীয় কাঁচামালের সরবরাহ এবং বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা, কারুকাজ এবং নির্মাণ জটিলতার ওপর নির্ভর করে মজুরি আলাদাভাবে নির্ধারিত হবে। সংগঠনটি আরও স্পষ্ট করেছে যে, স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপ্য অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফলে গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পুরোনো স্বর্ণ ক্রয়ের ক্ষেত্রে পূর্বের নিয়মই বহাল থাকবে।

মাত্র তিন দিন আগেই, গত ২৪ জুলাই, বাজুস স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল। সেদিন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একই সময়ে ২১ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা। তবে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার নতুন করে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং কাঁচা স্বর্ণ আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি—এসব কারণ দেশের বাজারেও সরাসরি প্রভাব ফেলে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য বাড়লে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দামও বৃদ্ধি পায়, যার প্রভাব পড়ে খুচরা পর্যায়ের বিক্রয়মূল্যে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিয়ের মৌসুম, উৎসব কিংবা বিনিয়োগের চাহিদা বাড়লে স্বর্ণের বাজারে মূল্য পরিবর্তনের প্রবণতা আরও বেশি দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনীতির নানা অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির কারণেও আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম তুলনামূলকভাবে উচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার ফলে অলঙ্কার কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ব্যয় আরও বাড়বে। বিশেষ করে বিয়ে বা পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য যাঁরা স্বর্ণ কিনতে চান, তাঁদের আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে। তবে অনেকেই মনে করছেন, স্বর্ণ দীর্ঘমেয়াদে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হওয়ায় দাম বাড়লেও এর চাহিদা পুরোপুরি কমবে না।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৯৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৬ বার দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, ৪৮ বার কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সংক্রান্ত সমন্বয় করা হয়েছে। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রায় নিয়মিত বিরতিতেই দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালেও স্বর্ণের বাজারে ছিল ব্যাপক মূল্য পরিবর্তনের প্রবণতা। ওই বছর মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ বার কমানো হয়। ধারাবাহিক এই মূল্য সমন্বয় প্রমাণ করে যে, বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে দেশের স্বর্ণবাজারও এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংযুক্ত।

অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বর্ণ শুধু অলঙ্কারের উপকরণ নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ সম্পদও। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিংবা মুদ্রাস্ফীতির সময় অনেক বিনিয়োগকারী স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়িয়ে থাকেন। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পেলে তার প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও দ্রুত প্রতিফলিত হয়।

বাজার পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের গতিপ্রকৃতি, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের মূল্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে দেশের বাজারে নতুন করে দাম সমন্বয় হবে কি না। আপাতত নতুন ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী সারা দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বর্ণ বিক্রি হবে এবং ক্রেতাদের সেই দামেই অলঙ্কার কিনতে হবে।

দেশের স্বর্ণবাজারে ঘন ঘন মূল্য পরিবর্তনের এই প্রবণতা ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—উভয় পক্ষের জন্যই নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে ভবিষ্যতে দামের ওঠানামাও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত