প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পরিবেশ সুরক্ষা ও বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন করেছেন বিএনপি নেতা জুবাইদা রহমান। বুধবার (১০ জুন) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পরিবেশ সচেতনতা, টেকসই উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনাকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা দেওয়া হয়। বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে সবুজায়ন বাড়ানো এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় বিজ্ঞান মেলা। মেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের তৈরি উদ্ভাবনী প্রকল্প, বিজ্ঞানভিত্তিক মডেল এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রজেক্ট উপস্থাপন করে। রোবটিক্স, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত সহজ সমাধানভিত্তিক উদ্ভাবন ছিল প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ।
অনুষ্ঠানে জুবাইদা রহমান বলেন, তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, একটি উন্নত ও আধুনিক সমাজ গঠনে বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণার বিকল্প নেই। তিনি শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবমুখী চিন্তা ও উদ্ভাবনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অপব্যবহার আজ বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় তরুণদেরই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে। বিজ্ঞান ও পরিবেশকে একসঙ্গে বিবেচনা করে ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক ও আয়োজকরা বলেন, বিজ্ঞান মেলা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের চিন্তা, গবেষণা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পায়। একই সঙ্গে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিবেশগত সচেতনতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানায়, এমন আয়োজন তাদের নতুন কিছু শেখার ও উদ্ভাবনী চিন্তা করার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে হাতে-কলমে প্রকল্প তৈরি ও উপস্থাপনার অভিজ্ঞতা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
অনুষ্ঠান ঘিরে এলাকাজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকেই বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং স্থানীয়রা উপস্থিত হন। মেলা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন অতিথিরা এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী কাজের প্রশংসা করেন।
পরিবেশবিদরা মনে করেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখা সম্ভব, তেমনি বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা ভবিষ্যতের টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করে। এই দুই উদ্যোগ একসঙ্গে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি নিয়মিতভাবে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি করে বিজ্ঞান ও পরিবেশ বিষয়ে সচেতন হতে পারে।
সব মিলিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও বিজ্ঞান মেলার এই আয়োজন স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।