প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সেবাদান প্রক্রিয়ায় জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হলে প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সরকারি কাজে অনিয়ম, বিলম্ব ও অদক্ষতা দূর করতে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, সেবা প্রদান ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় কোনো ধরনের গাফিলতি গ্রহণযোগ্য নয়। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা এবং সময়মতো কাজ সম্পন্ন করা প্রশাসনের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দক্ষতা উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।
সভায় তিনি বিভিন্ন প্রকল্পে ধীরগতি ও অকার্যকর ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহিমূলক কাঠামো আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জবাবদিহি নিশ্চিত করা হলে সরকারি সেবার মান উন্নত হয় এবং দুর্নীতির সুযোগ কমে আসে। তারা বলেন, কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা এবং কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রশাসনের দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে নীতিনির্ধারক মহল মনে করছে, ডিজিটাল প্রশাসন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সরকারি সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করা সম্ভব। ইতোমধ্যে অনেক সেবা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আনা হয়েছে, যা জনগণের সময় ও ভোগান্তি কমাতে সহায়তা করছে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হলে শুধু নির্দেশনা নয়, বরং নিয়মিত মূল্যায়ন, স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা এবং কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থাকা জরুরি। এতে করে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী হবে।
সব মিলিয়ে, প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহি নিশ্চিতের ওপর প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির চলমান প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।