সর্বশেষ :
২০২৬ বিশ্বকাপে বড় পরিবর্তন, ফুটবল টুর্নামেন্টে নতুন যুগের ইঙ্গিত সোমালি রেফারিকে ঢুকতে না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় ইয়ান রাইট ২০২৬ বিশ্বকাপ: গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কারা এগিয়ে? মিরসরাইয়ে নিখোঁজ তিন কিশোর উদ্ধার, স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে মেলান্দহে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু চিরিরবন্দরে ৩ মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারাদণ্ড ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার, বাজার স্থিতিশীলতায় উদ্যোগ প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহি নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মে মাসে বিজিবির অভিযানে ১৭৭ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ, সীমান্তে কড়াকড়ি জোরদার ৭৯ হাজার ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ নিয়ে নতুন বিতর্ক, যাচাই প্রক্রিয়া ঘিরে আলোচনা

১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার, বাজার স্থিতিশীলতায় উদ্যোগ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
  • ৭ বার
১০ হাজার টন মসুর ডাল ক্রয়

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক দর ও অভ্যন্তরীণ বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের ঘাটতি তৈরি না হয় এবং সাধারণ ভোক্তারা নিয়ন্ত্রণযোগ্য দামে পণ্যটি কিনতে পারেন।

সরকারি ক্রয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশি ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে এই মসুর ডাল সংগ্রহ করা হবে। খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট ক্রয় সংস্থা যৌথভাবে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করবে। আগামী মৌসুমে বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকায় আগাম মজুত গড়ে তোলার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

খাদ্য ও বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মসুর ডাল দেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এই পণ্যের দাম বেড়ে গেলে সরাসরি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর চাপ পড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার নিয়মিতভাবে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি ও মজুত ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিয়ে থাকে।

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ডালের সরবরাহ ও দামের ওঠানামা স্থানীয় বাজারেও প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে পরিবহন ব্যয়, ডলার বিনিময় হার এবং বৈশ্বিক উৎপাদন পরিস্থিতি এসব পণ্যের দামে বড় ভূমিকা রাখে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি ক্রয় বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে সম্প্রতি মসুর ডালের দাম নিয়ে কিছুটা অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। তবে সরকারি এই ক্রয় উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

একজন পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারি হস্তক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে সরকারি মজুত বাজারে আস্থার পরিবেশ তৈরি করে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৌশলগত মজুত ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার যখন নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্যপণ্য ক্রয় করে মজুত গড়ে তোলে, তখন তা বাজারে সরবরাহ সংকটের ঝুঁকি কমায় এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

তারা আরও বলেন, শুধু আমদানি নয়, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে পারলে এমন পণ্যের ওপর আমদানি নির্ভরতা কমে আসবে।

সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এই মসুর ডাল নির্ধারিত মজুতাগারে সংরক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বাজারে সরবরাহ করা হবে। এতে বাজারে সরবরাহ চেইন স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে ভোক্তা পর্যায়ে অনেকে মনে করছেন, সরকার নিয়মিতভাবে এ ধরনের উদ্যোগ নিলে বাজারে অপ্রয়োজনীয় মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা কমে আসবে। তবে কিছু ভোক্তা সংগঠন মনে করে, শুধু আমদানি ও ক্রয় নয়, বাজার তদারকি ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার এই সরকারি সিদ্ধান্তকে খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আসন্ন সময়ে নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত