প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) উপজেলার একটি গ্রামে ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে পুরো গ্রাম ভারী হয়ে ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত দুই শিশু পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ির পাশের একটি পুকুরের দিকে চলে যায়। কিছু সময় পর তাদের খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির নিকটবর্তী পুকুরে তাদের ভাসতে দেখা যায়। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশু দুটি প্রতিদিনের মতো খেলাধুলা করছিল। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন তারা আশপাশের অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় তাদের খোঁজ না পেয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে পুকুরে তাদের সন্ধান মেলে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
নিহত শিশুদের পরিবারের সদস্যরা জানান, মুহূর্তের অসতর্কতায় তাদের জীবনে এমন একটি অপূরণীয় ক্ষতি নেমে এসেছে, যা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। সন্তান হারানোর শোকে পরিবার দুটি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। স্বজনদের কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তারা শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে বাড়ির আশপাশে থাকা পুকুর, খাল বা জলাশয়ের ক্ষেত্রে শিশুদের একা চলাফেরা না করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
স্বাস্থ্য ও শিশু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে পানিতে ডুবে মৃত্যু একটি বড় সমস্যা। গ্রামীণ এলাকায় বাড়ির পাশে খোলা পুকুর, ডোবা বা জলাশয় থাকায় ছোট শিশুদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই কয়েক মিনিটের অসতর্কতায় এমন দুর্ঘটনা ঘটে যায়।
তাদের মতে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। শিশুদের সার্বক্ষণিক নজরদারির পাশাপাশি বাড়ির আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ জলাশয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। সচেতনতামূলক কার্যক্রমও এ ধরনের দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে প্রাথমিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পরিবারগুলোর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশের পাশাপাশি এলাকাবাসীকে শিশু নিরাপত্তা বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন এলাকায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর অসংখ্য ঘটনা ঘটে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব দুর্ঘটনা প্রতিরোধযোগ্য। শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে এমন মর্মান্তিক ঘটনার সংখ্যা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
মেলান্দহের এই ঘটনা আবারও শিশু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ সৃষ্টি করেছে। একটি মুহূর্তের অসাবধানতা যে দুটি নিষ্পাপ প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, এই ঘটনা তারই করুণ স্মারক হয়ে থাকল। শোকাহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় মানুষ, তবে হারিয়ে যাওয়া দুটি শিশুর শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।