জনগণের কল্যাণে সাংবাদিকদের কাজ করার আহ্বান এমরান সালেহ প্রিন্সের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
  • ১৩ বার
জনগণের কল্যাণে সাংবাদিকদের ভূমিকা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সংবাদ বিভাগ: রাজনীতি / গণমাধ্যম / জাতীয়

সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, বরং সমাজ, রাষ্ট্র এবং জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। এই প্রেক্ষাপটে জনগণের কল্যাণ, অধিকার এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এমরান সালেহ প্রিন্স।

একটি আলোচনা সভা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, গণমাধ্যম একটি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, সমস্যা, সম্ভাবনা এবং রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সাংবাদিকদের উচিত নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং নৈতিকতার ভিত্তিতে কাজ করা।

এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাধীন গণমাধ্যমের বিকল্প নেই। জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা অগ্রগণ্য। তিনি উল্লেখ করেন, সাংবাদিকরা যদি সত্যনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন, তাহলে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পায়।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তারের ফলে তথ্য প্রবাহের গতি বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কারণে যে কেউ তথ্য প্রকাশ করতে পারছে। কিন্তু তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে প্রচার করা হলে বিভ্রান্তি এবং গুজব ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই পেশাদার সাংবাদিকদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে।

বক্তব্যে তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, সাধারণ মানুষের সমস্যা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার মাধ্যমে সাংবাদিকরা দেশের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং পেশাগত মর্যাদাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা বিভিন্ন ধরনের চাপ, হুমকি এবং প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাষ্ট্র, সমাজ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা বলেন, বর্তমান সময়ে তথ্য যাচাই এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতার মধ্যেও তথ্যের নির্ভুলতা বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং পেশাগত মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, দেশের উন্নয়ন, সুশাসন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে গণমাধ্যমকে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে ভালো কাজের স্বীকৃতি যেমন তুলে ধরতে হবে, তেমনি অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়েও সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।

তিনি মনে করেন, সাংবাদিকদের দায়িত্ব কেবল সংবাদ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের কাজের মাধ্যমে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করাও গুরুত্বপূর্ণ। একটি সচেতন সমাজ গঠনে গণমাধ্যমের অবদান অপরিসীম।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে গণমাধ্যম খাত গত কয়েক দশকে ব্যাপক সম্প্রসারিত হয়েছে। প্রিন্ট, টেলিভিশন, অনলাইন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মিলিয়ে সংবাদ পরিবেশনের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় সাংবাদিকদের দক্ষতা এবং পেশাগত মান বজায় রাখার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, জনকল্যাণমূলক সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র এবং সমাজ গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত। জনগণের সমস্যার কথা তুলে ধরা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাস্তব চিত্র প্রকাশ করা এবং নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

তিনি বলেন, সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সত্য, ন্যায় এবং মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে শিশু, নারী, শ্রমজীবী মানুষ এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক বিশ্বে সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ যেমন বেড়েছে, তেমনি এর গুরুত্বও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভুয়া তথ্য, অপপ্রচার এবং তথ্যযুদ্ধের এই সময়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীরা সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, পেশাগত নিরাপত্তা, তথ্য অধিকার এবং গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতামত বিনিময় করেন। তারা সাংবাদিকদের জন্য আরও সহায়ক পরিবেশ এবং পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জনগণের কল্যাণকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকতা পরিচালিত হলে তা শুধু সংবাদ পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং সমাজ পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। আর সেই লক্ষ্যেই সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল, নিরপেক্ষ এবং জনমুখী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন এমরান সালেহ প্রিন্স।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত