হরমুজের দিকে কোনো জাহাজ আসলে পরিণতি হবে ভয়াবহ: আইআরজিসি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
  • ৭ বার
Hormuz_VCvZQD5

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পারস্য উপসাগরের অতি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ড কোর (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া যেকোনো জাহাজকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং এর “পরিণতি ভয়াবহ হবে”।

বৃহস্পতিবার ভোরে ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক হামলার পরপরই পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। এর কিছু সময়ের মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ড কেন্দ্র খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে যে, হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এই সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

আইআরজিসি নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে অবস্থানরত সব তেল ট্যাঙ্কার ও বাণিজ্যিক জাহাজকে নোঙরস্থানে অবস্থান করতে হবে এবং কোনোভাবেই তারা নিরাপদ অনুমতি ছাড়া চলাচল করতে পারবে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়াকে “শত্রু পক্ষকে সহযোগিতা” হিসেবে গণ্য করা হবে বলে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ, যার মধ্য দিয়ে দৈনিক বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালির মধ্য দিয়ে যায়।

ফলে এই জলপথে কোনো ধরনের অচলাবস্থা বা সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে তা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট এবং শিপিং খাতে বীমা খরচ বৃদ্ধির মতো প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে “অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ” হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধবিরতির নীতিমালার লঙ্ঘন, যার জবাবে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, পশ্চিমা সামরিক ও কূটনৈতিক মহল বলছে, পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং যেকোনো ভুল হিসাব পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধের বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

শিপিং খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে। বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের জ্বালানি আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিছু শিপিং কোম্পানি বিকল্প রুট ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে, যদিও তা সময় ও খরচ উভয় দিক থেকেই বাড়তি চাপ তৈরি করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি কেবল সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ভূরাজনৈতিক সংকটের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কারণ হরমুজ প্রণালি শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান লাইফলাইন হিসেবে বিবেচিত।

ইরানের এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক, উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা সমীকরণ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য—সবকিছুই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে।

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সৃষ্ট এই উত্তেজনা এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরিস্থিতির পরবর্তী গতি এখন নির্ভর করছে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সংযমের ওপর।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত