মেঘনায় নিখোঁজের ২৮ ঘণ্টা পর শিশুর লাশ উদ্ধার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
  • ৮ বার
hatia_megna_river_news_pic

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় নদীতে নিখোঁজের প্রায় ২৮ ঘণ্টা পর এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে নদীপাড়ের পরিবেশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে মেঘনা নদীর একটি পয়েন্টে কয়েকজন শিশুর সঙ্গে খেলা করার সময় ওই শিশু পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করলেও নদীর স্রোত এবং গভীরতার কারণে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

দীর্ঘ ২৮ ঘণ্টা ধরে টানা অনুসন্ধানের পর বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে নদীর একটি নির্দিষ্ট অংশ থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

ঘটনার পর এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শিশুটির পরিবার ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্থানীয়রা জানান, নদীর তীরবর্তী এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় বারবার প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, নদীর প্রবল স্রোত এবং কাদাযুক্ত তলদেশের কারণে উদ্ধার অভিযান কিছুটা সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে। তবুও সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, নদী পাড়ে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে সতর্কতা চিহ্ন, বাঁশের ব্যারিকেড এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী তীরবর্তী এলাকায় শিশুদের অসাবধানতা ও অভিভাবকদের নজরদারির অভাবই এ ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি অনেক জায়গায় নিরাপদ সাঁতার শেখার সুযোগ না থাকায় শিশুদের জন্য নদী আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বলে জানা গেছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে নদীপাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সতর্কতা বোর্ড স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে মেঘনার এই হৃদয়বিদারক ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে—নদীপাড়ে অবহেলা ও অসতর্কতা কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত