সর্বশেষ :
প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ খাতে বরাদ্দ কমায় উদ্বেগ তামাকমুক্ত বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে বাধা হতে পারে প্রস্তাবিত বাজেট: বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগে গতি ফিরবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নয়, লাইসেন্স বাতিল হয়েছে প্যাথলজি সেন্টারের: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্যাখ্যা খুলনায় গুলিতে নিহত বিএনপি নেতা ঢাকাইয়া রফিক, এলাকায় চাঞ্চল্য বাজেটে ঘাটতি ও ঋণনির্ভরতার ঝুঁকি, সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন জামায়াতের রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারে জেলা কমিটি বাজেটে সংস্কার দেখছেন না নাহিদ ইসলাম দেশকে সম্মানে ফেরানোর অঙ্গীকার মঈন খানের চলে গেলেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী ব্রিতো

দেশকে সম্মানে ফেরানোর অঙ্গীকার মঈন খানের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
  • ৩০ বার

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশকে আবারও বিশ্বের বুকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে আদর্শ, উন্নয়ন ভাবনা ও রাষ্ট্রচিন্তা রেখে গেছেন, সেই পথ অনুসরণ করেই বাংলাদেশকে নতুনভাবে এগিয়ে নিতে হবে। তার মতে, জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ছিল খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণ, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি এবং আত্মমর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্র গঠনের দর্শন।

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল এ সভার আয়োজন করে। সভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার মূল বিষয় ছিল জিয়াউর রহমানের জীবন, রাজনৈতিক ভূমিকা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তার চিন্তার প্রাসঙ্গিকতা।

মঈন খান বলেন, জাতির ক্রান্তিকালে সবাইকে তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী করতে হবে। তার ভাষায়, শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে তার উত্তরাধিকার তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপির লক্ষ্য শুধু ক্ষমতায় যাওয়া নয়। বরং বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে আবারও সম্মানসূচক অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া। তার দাবি, বিএনপি সেই দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্রকে খুব অল্প সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানের জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় এমন কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যা বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, প্রশাসন ও রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। মঈন খানের মতে, জিয়াউর রহমানের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বাস্তবভিত্তিক চিন্তা। তিনি কাগজে-কলমে উন্নয়নের কথা বলেননি। তিনি মাঠে গিয়েছেন, মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।

আলোচনা সভায় মঈন খান জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান খাল কেটে কৃষিক্ষেত্রে এক ধরনের বিপ্লব আনার চেষ্টা করেছিলেন। দেশের পানি ব্যবস্থাপনা, সেচ সুবিধা ও খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর জন্য তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার মতে, সেই সময়ের বাংলাদেশ ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত। অবকাঠামো দুর্বল ছিল। অর্থনীতি চাপের মধ্যে ছিল। মানুষের জীবনেও ছিল বড় অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতে জিয়াউর রহমান কৃষি ও উৎপাদনকে রাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে এনেছিলেন।

মঈন খান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে বাজেট দিয়েছিলেন, তা শুধু ঢাকা শহরের উঁচু তলার মানুষের জন্য ছিল না। সেটি ছিল দেশের সাধারণ মানুষের জন্য। খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষক, শ্রমিক, জেলে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং প্রান্তিক মানুষের জীবন বদলানোই ছিল সেই বাজেটের লক্ষ্য। তিনি বলেন, জিয়ার অর্থনৈতিক ভাবনা বুঝতে হলে গ্রামের মানুষের দিকে তাকাতে হবে। কারণ তার উন্নয়ন দর্শনের কেন্দ্র ছিল গ্রাম, উৎপাদন ও সাধারণ মানুষ।

বিএনপির এই নেতা বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে আধুনিক রাষ্ট্রে রূপান্তরের কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং আত্মনির্ভরশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। মঈন খান দাবি করেন, জিয়ার রাষ্ট্রচিন্তা আজও প্রাসঙ্গিক। কারণ বাংলাদেশ এখনো কৃষি, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, দুর্নীতি, বৈদেশিক সম্পর্ক এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি।

তার বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক সময়ের কথাও উঠে আসে। তিনি বলেন, জাতি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই রাজনৈতিক কর্মীদের শুধু স্লোগান দিলে হবে না। তাদের আদর্শ বুঝতে হবে। জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করার অর্থ কেবল ফুল দেওয়া নয়। বরং তার কাজ, চিন্তা ও রাষ্ট্র পরিচালনার ধরন থেকে শিক্ষা নেওয়া। তিনি বলেন, এমন একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করতে হবে, যার মাধ্যমে তার আদর্শকে বাস্তবে গ্রহণ করা যায়।

মঈন খান আরও বলেন, বাংলাদেশকে সম্মানজনক অবস্থানে নিতে হলে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে অর্থনীতিকে সাধারণ মানুষের পক্ষে দাঁড় করাতে হবে। তার মতে, উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা মানুষের জীবনে স্বস্তি আনে। শুধু বড় ভবন, বড় প্রকল্প বা বড় অঙ্কের বাজেট দিয়ে মানুষের ভাগ্য বদলায় না। মানুষের আয়, কর্মসংস্থান, খাদ্যনিরাপত্তা এবং ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করাই আসল উন্নয়ন।

সভায় বক্তারা বলেন, মৎস্যজীবী, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের রাজনীতিতে জিয়াউর রহমান বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। দেশের মৎস্য খাত, কৃষি খাত এবং গ্রামীণ উৎপাদনকে শক্তিশালী করার কথা তিনি বারবার বলেছেন। তাদের মতে, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে প্রান্তিক পেশাজীবীদের শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। কারণ দেশের অর্থনীতির বড় অংশ এখনো গ্রাম ও শ্রমনির্ভর মানুষের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি এখন জিয়াউর রহমানের আদর্শকে সামনে রেখে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানকে নতুনভাবে তুলে ধরতে চাইছে। দলটির নেতারা বারবার গণতন্ত্র, সুশাসন, অর্থনৈতিক স্থিতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনমানের কথা বলছেন। তবে এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য নীতি, দক্ষতা ও প্রশাসনিক জবাবদিহি জরুরি। কারণ সাধারণ মানুষ এখন শুধু প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না। তারা বাস্তব ফল দেখতে চায়।

ড. মঈন খানের বক্তব্যেও সেই বার্তা স্পষ্ট ছিল। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়। রাজনীতি মানে মানুষের জন্য কাজ করা। শহীদ জিয়াউর রহমান সেই রাজনীতির দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। এখন তার উত্তরসূরিদের দায়িত্ব সেই পথকে সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া।

আলোচনা সভায় বিএনপি নেতারা বলেন, জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী শুধু শোকের দিন নয়। এটি রাজনৈতিক আত্মসমীক্ষার দিনও। এই দিনে দলকে ভাবতে হবে, কীভাবে জিয়ার আদর্শ মানুষের জীবনে ফিরিয়ে নেওয়া যায়। কীভাবে রাজনীতিকে আরও জনমুখী করা যায়। কীভাবে দেশের মর্যাদা, অর্থনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা যায়।

মঈন খান বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের প্রত্যাশা বুঝে দেশ পরিচালনা করবে। তিনি দাবি করেন, জনগণের ভোট, আস্থা ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তার ভাষায়, বাংলাদেশকে আবারও এমন জায়গায় নিতে হবে, যেখানে বিশ্ব সম্মানের চোখে তাকাবে। আর সে লক্ষ্য পূরণে বিএনপি শহীদ জিয়ার আদর্শ ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে কাজ করবে।

তার বক্তব্যে একদিকে ছিল জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা। অন্যদিকে ছিল ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার। তিনি যে বার্তা দিতে চেয়েছেন, তা হলো, বিএনপি নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে জিয়ার উন্নয়ন দর্শন, জাতীয়তাবাদী চেতনা এবং সাধারণ মানুষের অর্থনীতি-কেন্দ্রিক রাজনীতিকেই সামনে রাখতে চায়। এখন সেই অঙ্গীকার কতটা বাস্তবে রূপ নেয়, সেটিই হবে জনগণের কাছে বড় পরীক্ষা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত