মদের দাম বাড়ানো বাজেট নিয়েও বিরোধীদের সমালোচনা: প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
  • ৪৭ বার

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় বাজেটকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এমন একটি বাজেটও বিরোধী দলের পছন্দ হচ্ছে না যেখানে সাধারণ মানুষের ওপর করের চাপ কমানো হয়েছে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোকেও বিরোধীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে এবং জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে ঐতিহাসিক পাতলী-মাছুয়াখালী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের শুরুতেই তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। পরে স্থানীয় জনগণ, কৃষক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে বক্তব্য প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি, কৃষি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় রেখে এবারের জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকার এমন সব খাতে কর ছাড় এবং সুবিধা দিয়েছে, যা সরাসরি সাধারণ জনগণের উপকারে আসবে। তিনি দাবি করেন, অতীতের তুলনায় এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর করের বোঝা কমানো হয়েছে এবং বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বক্তব্যে তিনি বলেন, “প্রতিবার বাজেট ঘোষণার পর সাধারণত মানুষের মধ্যে একটি আশঙ্কা কাজ করে যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। কিন্তু এবার সেই পরিস্থিতি হয়নি। কারণ সরকার ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে ট্যাক্স প্রত্যাহার করেছে। ফলে বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ কমেছে।”

জাতীয় বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করাই যেন তাদের প্রধান রাজনৈতিক কৌশলে পরিণত হয়েছে। তার ভাষায়, “যে বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, মদের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দলের ভালো লাগে না। তারা ইতিবাচক বিষয়গুলো দেখার পরিবর্তে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়। তাদের লক্ষ্য উন্নয়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং দেশে অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি করা।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যগুলোর ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে সরকার কর বৃদ্ধি করেছে। এর মাধ্যমে একদিকে রাজস্ব আয় বাড়বে, অন্যদিকে ক্ষতিকর পণ্যের ব্যবহার কমানোর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় তিনি কৃষি খাতের উন্নয়নকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের কৃষকদের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। নতুন বাজেটেও কৃষি খাতে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং কৃষকদের কাছে সরকারি সুবিধা আরও দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ভর্তুকি, কৃষিঋণ, বীজ, সার এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তা সহজে গ্রহণ করতে পারবেন। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে প্রকৃত কৃষকদের একটি সমন্বিত তথ্যভাণ্ডারের আওতায় এনে তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা।

পাতলী-মাছুয়াখালী খাল পুনঃখনন প্রকল্প সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগের পুনর্জাগরণ। প্রায় পাঁচ দশক আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই অঞ্চলের কৃষি ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে খাল খনন কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকার কৃষি উৎপাদন, পানি ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ সরাসরি ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে। প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং সাড়ে ৮ হাজারের বেশি কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন। স্থানীয় কৃষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে খালটির নাব্যতা কমে যাওয়ায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল এবং কৃষিকাজে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। পুনঃখননের ফলে সেই সমস্যার সমাধান হবে বলে তারা আশা করছেন।

রাজনৈতিক বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকট এবং ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবুও জনগণের সমর্থন এবং গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে সরকার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, “যারা বিভ্রান্তি ছড়ায়, তারা বিভিন্ন সময়ে দেশের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু জনগণ বারবার উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পক্ষে রায় দিয়েছে। জনগণ যাদের দায়িত্ব দিয়েছে, তারা দেশের জন্য কাজ করবে। আমরা সর্বোচ্চ শক্তি ও সামর্থ্য দিয়ে দেশ এবং জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাব।”

কক্সবাজার সফরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই পিএমখালী এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজারো মানুষ সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন এবং প্ল্যাকার্ড নিয়ে উপস্থিত হন। সফরের মূল আকর্ষণ ছিল ঐতিহাসিক পাতলী-মাছুয়াখালী খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন, যা স্থানীয়ভাবে উন্নয়ন এবং ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় বাজেট, কৃষি উন্নয়ন এবং অবকাঠামো পুনর্গঠনের বিষয়গুলোকে একই মঞ্চে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী সরকারের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি সমন্বিত বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে কর কমানো, কৃষি সহায়তা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোকে সামনে এনে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত