১৮ জুন থেকে সক্রিয় বৃষ্টিবলয়, বাড়ছে ভারিবৃষ্টির শঙ্কা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
  • ৫৭ বার

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। আগামী ১৮ জুন থেকে দেশের ওপর একটি শক্তিশালী বর্ষাকালীন বৃষ্টিবলয় সক্রিয় হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)। আবহাওয়া পর্যবেক্ষকদের মতে, এ বৃষ্টিবলয়ের প্রভাব টানা প্রায় ১২ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এর ফলে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার (১৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক আবহাওয়া বিশ্লেষণে বিডব্লিউওটি জানায়, চলতি বছরের প্রথম বড় বর্ষাকালীন বৃষ্টিবলয় ১৮ থেকে ১৯ জুনের মধ্যে বাংলাদেশে সক্রিয় হতে পারে। পরবর্তী সময়ে ২৯ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে এর প্রভাব অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি মৌসুমি বায়ুর শক্তিশালী সক্রিয়তার ফল হতে পারে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ বজ্রঝড়ের তুলনায় বর্ষাকালীন বৃষ্টিবলয়ের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন। এ ধরনের আবহাওয়ায় অনেক সময় ব্যাপক এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি হয়। তবে বজ্রপাত এবং তীব্র ঝড়ের প্রবণতা তুলনামূলক কম থাকে। ফলে মানুষ ঝড়ের ভয় কম পেলেও অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস এবং নদী অববাহিকায় পানি বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

বিডব্লিউওটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য বৃষ্টিবলয়ের কারণে সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ এবং রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভারি বৃষ্টির ঘটনা ঘটতে পারে। এসব অঞ্চলের অনেক জেলা এমনিতেই বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টির জন্য পরিচিত। ফলে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে কয়েক বছর ধরে বর্ষাকালে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের ঘটনা দেখা গেছে। আবহাওয়া বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি বৃষ্টিবলয় দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকে এবং উজান থেকে অতিরিক্ত পানি নেমে আসে, তাহলে স্থানীয় প্রশাসনকে আগাম প্রস্তুতি নিতে হতে পারে। একইভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকাগুলোতেও ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে কৃষি খাতেও এ বৃষ্টিপাত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। কৃষিবিদদের মতে, সময়মতো এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টি আমন ধানের চাষের জন্য উপকারী হলেও অতিবৃষ্টি ফসলের ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দুর্বল, সেখানে কৃষকদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে সরকারি আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনেও বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অধিদপ্তর জানিয়েছে, একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যান্য অংশে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব দুর্বল থেকে মাঝারি পর্যায়ে থাকলেও আগামী দিনগুলোতে এর শক্তি আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু এলাকাতেও অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া এবং বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে। জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশে সাধারণত বর্ষা পূর্ণমাত্রায় সক্রিয় হতে শুরু করে। এ সময় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট আর্দ্র বায়ু দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এবং দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিপাতের পরিবেশ তৈরি করে। এবারের সম্ভাব্য বৃষ্টিবলয় সেই মৌসুমি প্রক্রিয়ারই অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং সরকারি পূর্বাভাসের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। তাই যেকোনো দুর্যোগ বা ভারি বৃষ্টির বিষয়ে সর্বশেষ তথ্যের জন্য সরকারি আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন অনুসরণ করা উচিত। কারণ আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি অনেক সময় দ্রুত পরিবর্তিত হয় এবং পূর্বাভাসও সে অনুযায়ী হালনাগাদ করা হয়।

সম্ভাব্য বৃষ্টিবলয়কে সামনে রেখে স্থানীয় প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকা, নদী তীরবর্তী অঞ্চল এবং জলাবদ্ধতাপ্রবণ শহরাঞ্চলে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে জুনের দ্বিতীয়ার্ধে দেশের আবহাওয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যদি পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টিবলয় সক্রিয় হয়, তাহলে দেশের চার বিভাগে টানা কয়েকদিন ব্যাপক বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে কৃষি, জনজীবন, পরিবহন এবং স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন নজর থাকবে আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতির দিকে এবং বৃষ্টিবলয়ের প্রকৃত শক্তি ও স্থায়িত্বের ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত