পায়রা সেতুতে দায়িত্ব পালনকালে টোল কালেক্টরের মৃত্যু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • ১৬ বার
পায়রা সেতুতে দায়িত্ব পালনকালে টোল কালেক্টরের মৃত্যু

প্রকাশ:  ২৭ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পায়রা সেতুতে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক টোল কালেক্টরের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে সহকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে। নিয়মিত কর্মঘণ্টার মাঝেই আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সহকর্মীরা দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি কর্মস্থলে স্বাস্থ্যঝুঁকি, জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং কর্মীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টিকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পায়রা সেতুর উত্তর প্রান্তে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সজল আহমেদ সৈকত (৫০) ময়মনসিংহ সদর পৌর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পায়রা সেতুর টোল কালেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ও আন্তরিক কর্মকর্তা হিসেবে সহকর্মীদের কাছে পরিচিত ছিলেন।

টোল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় সজল আহমেদ সৈকত স্বাভাবিক নিয়মে টোল আদায়ের দায়িত্ব পালন করছিলেন। হঠাৎ তিনি অসুস্থ বোধ করেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলে থাকা সহকর্মীরা প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও সেতুর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় তার অসুস্থ হয়ে পড়ার দৃশ্য নজরে আসে নিয়ন্ত্রণকক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সহকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। এরপর কোনো সময় নষ্ট না করে নিকটবর্তী লেবুখালী সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এ নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

ঘটনার পর পায়রা সেতুর টোল প্লাজায় কর্মরত সহকর্মীদের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনেকেই জানান, সজল আহমেদ সৈকত কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ছিলেন। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তিনি স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেছিলেন। হঠাৎ এমন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিলেন না। তার আকস্মিক মৃত্যু সহকর্মীদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।

টোল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং পরে তা তার গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে সহকর্মীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন তারা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন, মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন কিংবা পূর্ববর্তী হৃদরোগের জটিলতা থাকলে আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে কর্মরত কর্মীদের জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

পায়রা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এ সেতু ব্যবহার করে এবং টোল প্লাজায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করেন। এমন ব্যস্ত কর্মপরিবেশে কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জরুরি চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং আইনগত ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিহত কর্মীর পরিবারের প্রতি প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। আকস্মিক এ মৃত্যুর ঘটনায় পায়রা সেতুর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও শোকের আবহ বিরাজ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত