প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কক্সবাজার সফরে এক ব্যতিক্রমী ও নজরকাড়া ঘটনার জন্ম দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমানবন্দরে অবতরণের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে পাশে বসিয়ে তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে গন্তব্যে রওনা দেন, যা পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। অবতরণের পর তিনি সরাসরি গাড়ির চালকের আসনে বসেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে হিলটপ সার্কিট হাউসের দিকে যাত্রা করেন। এ সময় বিমানবন্দর এলাকায় উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিরাপত্তা সদস্য এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা তৈরি হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এছাড়া পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
হিলটপ সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী পিএমখালীর ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া খালটির পুনঃখননের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষি, সেচ ব্যবস্থা এবং পরিবেশগত ভারসাম্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে এই কর্মসূচি ঘিরে কক্সবাজারের পিএমখালী এলাকায় সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
দিনব্যাপী সফরসূচি অনুযায়ী, বেলা সোয়া ১১টায় প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে দুপুর ১২টায় ‘সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং পার্ক পরিদর্শন করার কথা রয়েছে।
এরপর দুপুর সোয়া ১২টায় তিনি পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা মুরাপাড়ার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে দুপুর ১টায় ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রথম শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
পরবর্তীতে দুপুর দেড়টায় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং দুপুর পৌনে ৩টায় পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। জোহরের নামাজ শেষে বিকেল ৩টায় পেকুয়ার সাঈদ ম্যানশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
বিকেল সাড়ে ৩টায় পেকুয়া থেকে রওনা হয়ে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে পৌঁছে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন তিনি। জনসভা শেষে বিকেল পৌনে ৫টায় কক্সবাজার শহরের উদ্দেশে রওনা দিয়ে মেরিন ড্রাইভ ও সমুদ্রসৈকত এলাকা পরিদর্শন করবেন।
দিনের শেষ কর্মসূচি হিসেবে রাত ৮টায় কক্সবাজারের লং বিচ হোটেল অডিটোরিয়ামে জেলার বিশিষ্ট নাগরিক ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর রাত ৯টায় সপরিবারে বিমানযোগে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
পুরো সফর ঘিরে কক্সবাজারজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রশাসন দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।