সর্বশেষ :
সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের মিশ্র অভিজ্ঞতা: জয় ও তিন ধাক্কা পোশাক ও ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার সরব উপস্থিতি এআই চিপে দক্ষিণ কোরিয়ার বড় বিনিয়োগ: সম্ভাবনা ও ঝুঁকি হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণে ফ্রান্সের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ডেপুটি গভর্নর সরোয়ার হোসেন পূবালী ব্যাংকে গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ: যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ব্যাংক লুটপাটে জড়িতদের ফেরার পথ বন্ধ, বাতিল হচ্ছে ১৮(ক) ধারা খামেনির শেষকৃত্যে যোগ দেবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আর্তনাদ, ভেনেজুয়েলায় মৃত্যুর মিছিল ১৮০০ ছুঁইছুঁই

মোনাকোয় পার্সেল বোমা বিস্ফোরণে আহত ইউক্রেনীয় ধনকুবের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ১৪ বার
মোনাকোয় পার্সেল বোমা বিস্ফোরণে আহত ইউক্রেনীয় ধনকুবের

প্রকাশ: ৩০ জুন  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পশ্চিম ইউরোপের ক্ষুদ্র দেশ মোনাকোর একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ পার্সেল বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ইউক্রেনীয় ধনকুবের ভাদিম ইয়েরমোলাইয়েভ, তার সঙ্গী এবং ১৩ বছর বয়সী ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দেশটিতে।

ফরাসি ও ইউক্রেনীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, ফ্রান্স সীমান্তসংলগ্ন মোনাকোর রু রেভেরঁ পেরে লুই ফ্রোলা সড়কের একটি আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণটি ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি পরিকল্পিত পার্সেল বোমা হামলা।

মোনাকো সরকার জানিয়েছে, বিস্ফোরণের উৎস ছিল একটি বিস্ফোরকভর্তি পার্সেল। দেশটির প্রতিমন্ত্রী ক্রিস্টোফ মিরমাঁ জানিয়েছেন, বিস্ফোরক যন্ত্রটিতে বোল্ট ও ধাতব টুকরা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব উপাদান বিস্ফোরণের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন।

ঘটনার পরপরই মোনাকোর নিরাপত্তা বাহিনী ও জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শতাধিক পুলিশ সদস্য ও উদ্ধারকর্মী সেখানে মোতায়েন করা হয়। আহত তিনজনকে চিকিৎসার জন্য ফ্রান্সের নিকটবর্তী শহর নিসের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

মোনাকো সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিস্ফোরণের আগে ধারণ করা একটি নজরদারি ভিডিওতে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে একটি ভবনের লবিতে ব্যাকপ্যাক রেখে যেতে দেখা গেছে। পরে ওই ব্যক্তিকে হেঁটে ফ্রান্সের দিকে পালিয়ে যেতে দেখা যায় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ঘটনার পর মোনাকো প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। হামলার উদ্দেশ্য, হামলাকারীর পরিচয় এবং ভুক্তভোগীদের লক্ষ্য করে কেন এই বিস্ফোরক রাখা হয়েছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্তকারীরা কাজ করছেন।

মোনাকো সরকারের প্রধান ক্রিস্টোফ মিরমাঁ বলেছেন, তার জানা মতে, রাজ্যের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা আগে ঘটেনি। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করে জানান, ফরাসি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

মোনাকোর শাসক প্রিন্স আলবার্ট দ্বিতীয় এই ঘটনাকে একটি “জঘন্য অপরাধ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, এটি শুধু আক্রান্ত পরিবারের জন্য নয়, পুরো মোনাকো সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় ধাক্কা। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

আহত ধনকুবের ভাদিম ইয়েরমোলাইয়েভ ইউক্রেনের একজন পরিচিত ব্যবসায়ী। তিনি মূলত রিয়েল এস্টেট খাতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কয়েক বছর আগে তিনি ইউক্রেন ছেড়ে চলে যান এবং বিদেশে বসবাস শুরু করেন।

ইয়েরমোলাইয়েভের নাম ইউক্রেনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আলোচনাতেও এসেছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ইউক্রেন সরকার তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে মোনাকোয় তার ওপর হামলার পেছনে ওই নিষেধাজ্ঞার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ইউরোপের অন্যতম নিরাপদ ও ধনী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত মোনাকো সাধারণত কম অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত হয়। দেশটির রাজপরিবার, ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক ধনীদের বসবাসের কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখানে অত্যন্ত কঠোর।

তাই মোনাকোর মতো একটি নিরাপত্তা-সচেতন এলাকায় আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে একটি পরিকল্পিত পার্সেল বোমা হামলা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে পর্যালোচনার মধ্যে ফেলেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা এখন বিস্ফোরণের ধরন, ব্যবহৃত উপকরণ এবং সন্দেহভাজনের গতিবিধি বিশ্লেষণ করছেন। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে হামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় ফ্রান্সের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকেও যুক্ত করা হয়েছে, কারণ সন্দেহভাজন ব্যক্তি বিস্ফোরণের পর ফ্রান্সের দিকে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিগত বিরোধ, সংগঠিত অপরাধ এবং রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সংঘাতের কারণে লক্ষ্যভিত্তিক হামলার ঝুঁকি বেড়েছে। তবে মোনাকোর মতো ছোট ও নিরাপদ অঞ্চলে এমন ঘটনা বিরল হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

পার্সেল বোমা বিস্ফোরণের এই ঘটনা মোনাকোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে হামলার উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত