প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন চেয়ারম্যান আহসান হাবিব বলেছেন, দেশের রাজস্ব আদায় বাড়ানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বক্তব্যে তিনি রাজস্ব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, সততা ও নিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নতুন এনবিআর চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।
আহসান হাবিব বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য রাজস্ব আদায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যেকে যদি নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন, তাহলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে দেশ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি শুধু এনবিআরের একার দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়া। করদাতা, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করলে রাজস্ব ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
এর আগে সোমবার এক সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কর প্রশাসনের কর্মকর্তা আহসান হাবিবকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি বিদায়ী চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
রাজস্ব খাতের শীর্ষ এই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আহসান হাবিবের দায়িত্ব গ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ দেশের উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন, সরকারি ব্যয় পরিচালনা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে এনবিআরের রাজস্ব সংগ্রহের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন এনবিআর চেয়ারম্যান ১৫তম বিসিএস (ট্যাক্সেশন) ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। এরপর বিসিএস পরীক্ষাতেও নিজের ব্যাচে প্রথম স্থান অধিকার করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কর প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে কর অঞ্চল-১৫-এর কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এছাড়া কর গোয়েন্দা ও তদন্ত কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সিআইসির মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
সিআইসির মহাপরিচালক থাকাকালে কর ফাঁকি, আর্থিক অনিয়ম এবং অবৈধ লেনদেনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি আলোচিত অনুসন্ধান পরিচালনায় তিনি ভূমিকা রাখেন। রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং কর ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এসব কার্যক্রম আলোচনায় আসে।
অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম ‘উল্কাগেমস’ থেকে বকেয়া কর আদায়ের উদ্যোগেও তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি কর প্রশাসনে সক্রিয় ও অনুসন্ধানী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পান।
বর্তমানে আহসান হাবিব বিসিএস ট্যাক্সেশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। কর প্রশাসনের ভেতরে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকায় এনবিআরের নীতিনির্ধারণ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের রাজস্ব আদায় দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি, করজাল সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি বন্ধ এবং করদাতাদের আস্থা বাড়ানো—এসব বিষয়কে সামনে রেখে এনবিআরকে কাজ করতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু করের হার বাড়ানো নয়, বরং কর ব্যবস্থাকে সহজ, আধুনিক ও জনবান্ধব করাই রাজস্ব বৃদ্ধির অন্যতম পথ। নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর কর প্রশাসনে প্রযুক্তির ব্যবহার, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং করদাতাদের হয়রানি কমানোর মতো বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
এনবিআরের সামনে চলতি সময়ে বড় দায়িত্ব হলো সরকারের নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ বজায় রেখে কর আদায় বাড়ানোও একটি বড় ভারসাম্যের বিষয়।
আহসান হাবিব দায়িত্ব গ্রহণের পর যে বার্তা দিয়েছেন, তাতে সহযোগিতা, সততা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব পেয়েছে। এখন তার নেতৃত্বে দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সেদিকেই নজর রাখছেন অর্থনীতি সংশ্লিষ্টরা।