রাজস্থানে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে আগুন, নিহত ৭

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • ৯ বার
রাজস্থানে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে আগুন, নিহত ৭

প্রকাশ: ১ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের রাজস্থানে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। একটি স্লিপার বাস ও ট্রেলারের মধ্যে সংঘর্ষের পর আগুন ধরে গেলে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এতে আরও অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাও রয়েছে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে রাজ্যের দৌসা জেলার কাছে দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। চলন্ত বাসে থাকা যাত্রীরা ঘুমিয়ে থাকায় অনেকেই পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই আগুনের মধ্যে আটকা পড়ে যান।

স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ঋষিকেশ থেকে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরগামী একটি স্লিপার বাস দ্রুতগতিতে চলছিল। একপর্যায়ে সেটি একটি ট্রেলারের সঙ্গে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের পরপরই বাস ও ট্রেলার—দুই যানবাহনেই আগুন ধরে যায়।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে ভয়াবহ দৃশ্য। ভিডিওতে দেখা যায়, আগুনের লেলিহান শিখার মধ্যে যাত্রীরা বাঁচার জন্য চিৎকার করছেন। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। অনেক যাত্রী জানালা ও জরুরি পথ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় বাসের ওপরের বার্থে থাকা অনেক যাত্রী ধাক্কায় নিচে পড়ে যান। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়ে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে পাঁচজন আগুনে পুড়ে মারা যান এবং দুজন মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে প্রাণ হারান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত যাত্রীদের বেশির ভাগই দুর্ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে সংঘর্ষের পর হঠাৎ আগুন লাগায় তারা নিজেদের রক্ষা করার পর্যাপ্ত সুযোগ পাননি।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। পরে দমকল বাহিনী ও প্রশাসনের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে। আহতদের দ্রুত দৌসা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু রয়েছেন। কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, চালকের অসতর্কতা, অতিরিক্ত গতি অথবা ঘুমিয়ে পড়ার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলের বিভিন্ন দিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। যানবাহনের গতি, চালকের অবস্থা এবং সড়কের পরিস্থিতি—সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে।

দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়ে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও আধুনিক মহাসড়ক। দ্রুত যোগাযোগের সুবিধার জন্য এই সড়কে যান চলাচল অনেক বেশি। তবে উচ্চ গতি, চালকের ক্লান্তি এবং নিরাপত্তা বিধি না মানার কারণে মাঝে মাঝে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করেছে। তাদের দাবি, আগুন লাগার পর দীর্ঘ সময় ধরে কয়েকজন যাত্রী বাসের ভেতরে আটকা ছিলেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিহতদের স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দূরের পথে যাত্রা করা প্রিয়জনদের এমন আকস্মিক মৃত্যু পরিবারগুলোর জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। অনেক পরিবার হাসপাতাল ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বজনদের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

ভারতে সড়ক দুর্ঘটনা একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। দেশটিতে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম, যানবাহনের নিয়মিত পরীক্ষা, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।

বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বের বাস চলাচলের ক্ষেত্রে চালকের শারীরিক সক্ষমতা ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

রাজস্থানের এই দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একটি যাত্রাপথ কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হতে পারে, সেই নির্মম বাস্তবতা সামনে এসেছে এই ঘটনায়।

বর্তমানে প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ বের করা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও জোর দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত