সহিংসতার দায়ে অভিযুক্ত জাপানি অভিনেতা নিজিরো মুরাকামি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • ৩ বার
সহিংসতার দায়ে অভিযুক্ত জাপানি অভিনেতা নিজিরো মুরাকামি

প্রকাশ:  ০১ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

হলিউড ও জাপানি বিনোদন জগতে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন এবং তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে দর্শকদের কৌতূহলের শেষ নেই। তবে মাঝে মাঝে এমন কিছু ঘটনা প্রকাশ্যে আসে যা শিল্পীদের ভাবমূর্তিকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দেয়। সম্প্রতি জাপানি চলচ্চিত্র ও সিরিজের জনপ্রিয় মুখ, নেটফ্লিক্সের সাড়া জাগানো সিরিজ ‘অ্যালিস ইন বর্ডারল্যান্ড’-এ ‘চিশিয়া’ চরিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি পাওয়া অভিনেতা নিজিরো মুরাকামিকে ঘিরে দানা বেঁধেছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক। তার বিরুদ্ধে প্রাক্তন প্রেমিকাকে একাধিকবার শারীরিক নির্যাতনের ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় পুরো জাপানি চলচ্চিত্র জগতে তোলপাড় শুরু হয়েছে, আর ভক্তদের মধ্যে নেমে এসেছে হতাশার ছায়া।

জাপানি সংবাদমাধ্যম ‘নিক্কান স্পোর্টস’ এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে টোকিওর শিবুয়া এলাকায় অবস্থিত মুরাকামির ব্যক্তিগত বাসভবনে এই নির্যাতনের ঘটনাগুলো ঘটে। অভিযোগকারী নারী, যিনি তৎকালীন সময়ে মুরাকামির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ ছিলেন, পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে জানিয়েছেন যে, মুরাকামি তাকে মোট চারবার শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন। এই নির্যাতনের ধরন ছিল অত্যন্ত নৃশংস ও অমানবিক। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মুরাকামি তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করার সময় চুল টেনে ধরা, মাথার পেছনের অংশ সজোরে জানালার কাচে ঠুকে দেওয়া এবং মুখে বারবার ঘুষি মারার মতো সহিংস আচরণ করেছিলেন। এই বর্বর নির্যাতনের ফলে ওই নারী এতটাই গুরুতর আহত হয়েছিলেন যে, তার শারীরিক ক্ষত শুকাতে এক মাসেরও বেশি সময়ের প্রয়োজন পড়েছিল।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ভুক্তভোগী ওই নারী চলতি বছর সাহস সঞ্চয় করে টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর হারাজুকু পুলিশ স্টেশন ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘ তদন্ত পরিচালনা করে। দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পর পুলিশ মামলাটি প্রসিকিউটর বা সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ে হস্তান্তর করেছে। এখন আইন অনুযায়ী প্রসিকিউটররা সিদ্ধান্ত নেবেন যে, এই ঘটনায় মুরাকামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ফৌজদারি অভিযোগ গঠন করা হবে কি না। আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়া মুরাকামি পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের অপরাধের কথা স্বীকারও করেছেন। তদন্তকারীদের সামনে তিনি অকপটে জানিয়েছেন, “আমি যে তাকে আঘাত করেছি, এতে কোনো সন্দেহ নেই।” মুরাকামির এমন স্বীকারোক্তি একদিকে যেমন তার অপরাধের সত্যতা নিশ্চিত করেছে, অন্যদিকে ভক্তদের মনে তার চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।

২৯ বছর বয়সী নিজিরো মুরাকামি জাপানের অন্যতম প্রতিভাবান অভিনেতা হিসেবে পরিচিত। অভিনেতা জুন মুরাকামি এবং প্রখ্যাত গায়িকা ইউএ-এর সন্তান হিসেবে শিল্প ও সংস্কৃতির আবহে বেড়ে ওঠা এই অভিনেতা ২০১৪ সালে ‘স্টিল দ্য ওয়াটার’ সিনেমার মাধ্যমে বিনোদন জগতে পা রাখেন। এরপর ‘ডেসট্রাকশন বেবিস’, ‘দ্য মিরাকলস অফ দ্য নামিয়া জেনারেল স্টোর’ এবং সবশেষ ‘অ্যালিস ইন বর্ডারল্যান্ড’-এ চিশিয়া চরিত্র তাকে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি এনে দেয়। ২০২৩ সালে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের খাতিরে তিনি অভিনয়ে বিরতি নিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে ভক্তদের কাছে সহমর্মিতা কুড়িয়েছিল। কিন্তু সেই বিরতির ঠিক আগের সময়ের সহিংস কর্মকাণ্ড এখন প্রকাশ্যে আসায় জনমনে তার আগের সেই ইমেজ অনেকটাই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।

মুরাকামির নতুন সিনেমা ‘স্ট্রেঞ্জ স্টোরিজ দ্যাট কিপ ইউ আপ অ্যাট নাইট’ আগামী ৩ জুলাই মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। এই বিতর্কিত পরিস্থিতিতে সিনেমাটির মুক্তি এবং এতে মুরাকামির অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বা টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি যে, চলমান আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তারা মুরাকামিকে এই প্রজেক্ট থেকে সরিয়ে দেবে কি না। তার ট্যালেন্ট এজেন্সিও এখন পর্যন্ত নীরবতা পালন করছে, যা দর্শকদের মনে ক্ষোভ ও কৌতূহলকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

একজন শিল্পী হিসেবে মুরাকামির কাজের প্রশংসা থাকলেও, ব্যক্তিগত জীবনে তার এই সহিংস আচরণের খবর বিনোদন জগতের অন্ধকার দিকটিই আবার সামনে নিয়ে এল। তার অপরাধের এই ভয়াবহতা প্রমাণ করে যে, খ্যাতির আড়ালে থাকা মানুষগুলো অনেক সময় কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। এখন সবার চোখ আইন ব্যবস্থার দিকে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চললে এই তরুণ অভিনেতার ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ জাপানে সাধারণত আইনগত জটিলতায় জড়ানো তারকাদের খুব দ্রুতই সমাজ ও ইন্ডাস্ট্রি বয়কট করে। বিচারের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা এখন সময়ের দাবি, তবে মুরাকামির এই ঘটনা যে তার ভক্তদের গভীর হতাশায় ডুবিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ব্যক্তিগত জীবনের এই কলঙ্কিত অধ্যায় কীভাবে তিনি সামলাবেন বা এই আইনি যুদ্ধের পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা দেখার জন্য এখন পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে জাপানের বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত