বন্যার কবলে সাজেক, আটকা পাঁচ শতাধিক পর্যটক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৩ বার
বন্যার কবলে সাজেক, আটকা পাঁচ শতাধিক পর্যটক

প্রকাশ: ০৮ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙামাটির সাজেক ভ্যালি যেন আজ এক অচেনা রূপ ধারণ করেছে। পাহাড়ের চূড়ায় মেঘের আনাগোনা আর আঁকাবাঁকা রাস্তার রোমাঞ্চ উপভোগ করতে আসা পর্যটকদের কাছে এই ভ্রমণটি এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিধিবাম, প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্টি হওয়া বন্যার কারণে স্বপ্নের এই ভ্রমণ মুহূর্তের মধ্যে এক বড় সংকটে রূপ নিয়েছে। খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থান বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাজেক বর্তমানে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর ফলে বর্তমানে প্রায় পাঁচ শতাধিক পর্যটক সাজেকে আটকা পড়েছেন। তাদের জীবনে নেমে এসেছে এক অনিশ্চিত সময়, যেখানে পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে দিগন্ত দেখার বদলে এখন তাদের সঙ্গী হয়েছে দুশ্চিন্তা ও বাড়ি ফেরার আকুলতা।

পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যে, মঙ্গলবার সাজেকে অবস্থান করা পর্যটকদের বুধবার সকালে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু বৃষ্টির তীব্রতা ও পাহাড়ি ঢলের তোড়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন জানিয়েছেন, রাস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে বন্যার পানি জমে থাকায় ভারী যানবাহন চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে পর্যটকরা এখন সাজেকেই অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন। যদিও তাদের নিরাপত্তা ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয়রা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছেন, তবুও পরিবারের সদস্য ও প্রিয়জনদের থেকে দূরে পাহাড়ের নির্জনতায় এই আটকা পড়া অবস্থাটি পর্যটকদের জন্য এক মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের তৎপরতায় আটকা পড়া পর্যটকদের সার্বিক অবস্থা মনিটরিং করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনো ঝুঁকি না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতির কথা মাথায় রেখে প্রশাসন সাজেক ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফলে সকাল থেকে খাগড়াছড়ি থেকে কোনো পর্যটকবাহী গাড়ি সাজেকের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়নি। এই নিষেধাজ্ঞা পর্যটকদের নিরাপত্তার খাতিরেই দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো বিপদে না পড়েন। প্রশাসনের আশা, বৃষ্টির তীব্রতা কমে গেলে এবং পানির স্তর নেমে গেলে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে এবং আটকে থাকা পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

পাহাড়ি এলাকায় বন্যাকালীন পরিবেশ খুবই সংবেদনশীল। সাজেক যাওয়ার রাস্তাটি যেমন সুন্দর, তেমনি এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বৃষ্টির সময় পাহাড়ে ধস নামার সম্ভাবনা থাকে এবং রাস্তাগুলোতে পানি জমে যায়। পর্যটকদের জন্য এটি একটি বড় শিক্ষা যে, পাহাড়ের আবহাওয়া সব সময় পূর্বাভাসযোগ্য নয়। যে পাহাড় আজ সুন্দর, কাল তা রুদ্রমূর্তি ধারণ করতে পারে। বর্তমানে আটকা পড়া পর্যটকদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা প্রথমবারের মতো সাজেক ভ্রমণে এসেছিলেন। তাদের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়তো সারা জীবন মনে থাকবে, তবে স্থানীয়দের মানবিক সহযোগিতায় তারা আশা করছেন যে দ্রুতই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার হবে এবং তারা সুস্থ শরীরে বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন।

স্থানীয় রিসোর্ট মালিক ও ব্যবসায়ীরাও এই দুর্যোগে পর্যটকদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করছেন। আটকা পড়া পর্যটকদের খাবার ও থাকার বিষয়ে তারা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। মানবিক এই সংকটে সাজেকের মানুষ সবসময়ই ভ্রাতৃত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়ে থাকে। পর্যটকরা যাতে কোনো প্রকার আতঙ্কে না ভোগেন, সেজন্য তাদের নিয়মিত আপডেট জানানো হচ্ছে। তবে প্রকৃতির এই বিরূপ পরিস্থিতিতে কারও পক্ষে আগেভাগে বাড়ি ফেরা সম্ভব নয়। পর্যটকদের এখন কেবল অপেক্ষা ছাড়া কোনো উপায় নেই। প্রকৃতির খেয়ালের ওপর ভিত্তি করেই এখন তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত পরিস্থিতির আপডেট নিচ্ছে। আমরা আশা করছি, আবহাওয়া পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে এবং আটকে থাকা পর্যটকরা নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারবেন। পাহাড়ি অঞ্চলের এই ধরণের পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যটকদের আরও সচেতন হওয়া জরুরি। ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে আবহাওয়া পূর্বাভাস যাচাই করা এখন সময়ের দাবি। মেঘের রাজ্যে এসে মেঘের আড়ালে আটকে থাকা এই পর্যটকদের জন্য আমরা সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। দুর্যোগের এই কয়েকটা দিন ধৈর্য ধরে পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়াই এখন সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। আমরা আশা রাখি, দ্রুতই সাজেক ভ্যালি আবারও তার স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে এবং পর্যটকরা মেঘের দেশে আনন্দের সাথে তাদের সময় অতিবাহিত করতে পারবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত