প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
উত্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও আশার বাতিঘর হিসেবে পরিচিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিস্তাপাড়ের জনপদকে খরা ও বন্যার করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করার অঙ্গীকার করেছে বর্তমান সরকার। অথচ সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী উদ্যোগ যখন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এই প্রকল্পের রাজনৈতিক ক্রেডিট বাগিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে জামায়াতসহ সমমনা কয়েকটি রাজনৈতিক দল। শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড়-নীলফামারী সীমান্তে ‘পঞ্চগড় গেট’ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্যই করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, যা এখন বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে।
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার যখন তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে এবং এই প্রকল্পের জটিল আইনি ও অর্থনৈতিক কাঠামো সমাধানের পথে, ঠিক সেই মাহেন্দ্রক্ষণেই কিছু রাজনৈতিক দল মাঠে নেমেছে। তিনি বলেন, তিস্তা নিয়ে যখন বিএনপি কাজ শুরু করেছিল, তখন এই তথাকথিত আন্দোলনকারী দলগুলোর কোনো অস্তিত্বই ছিল না, এমনকি তাদের কোনো কার্যকর স্বপ্ন বা পরিকল্পনাও ছিল না। এখন যখন প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রায় নিশ্চিত, তখন ক্রেডিট নেওয়ার জন্য স্টান্টবাজির রাজনীতি শুরু করেছে জামায়াতসহ এগারোটি দলের একটি জোট। তিনি কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে এখন আর স্টান্টবাজির রাজনীতি চলবে না, জনগণ এখন কাজের ফলাফলে বিশ্বাস করে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি উত্তরের কোটি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিএনপি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সেই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সরকার এখন কাজ করে যাচ্ছে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ বা অহেতুক আন্দোলন উন্নয়ন যাত্রাকে ব্যাহত করতে পারবে না। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। জামায়াত বা অন্য কোনো দলের অহেতুক এই আন্দোলন কেবল জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা মাত্র। জনগণ জানে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূল কৃতিত্ব কার এবং উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা তারা কখনো ক্ষমা করবে না।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিস্তা প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতির বিষয়েও আশ্বাস দেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রকল্পটির কাজ অচিরেই পুরোদমে শুরু হতে যাচ্ছে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তরের কয়েক জেলার মানুষের জীবনমান আমূল বদলে যাবে। এই মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকার অত্যন্ত সিরিয়াস এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব অধিদপ্তরকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চগড় গেট নির্মাণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি কেবল একটি গেট নয়, এটি পঞ্চগড়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক। স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতেই জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে এই গেট নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। পঞ্চগড়ের প্রবেশদ্বার হিসেবে এই গেট জেলার নান্দনিকতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং পর্যটন বিকাশে ভূমিকা রাখবে। তিনি এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীদের কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গেট নির্মাণের কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহা এবং পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের উপস্থিতিতে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর দৃঢ় বক্তব্যকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন এবং জামায়াতের এই ‘ক্রেডিট নেওয়ার রাজনীতি’কে প্রত্যাখ্যান করার অঙ্গীকার করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার মতো একটি বৃহৎ প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন রাজনৈতিক মেরুকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। জামায়াতের এই আন্দোলন মাঠ পর্যায়ে খুব একটা প্রভাব বিস্তার করতে না পারলেও, তারা জনমনে সংশয় সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে সরকারের উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ড এবং বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দৃঢ়তা জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা এখন কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের ইস্যু নয়, বরং এটি উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক মুক্তির একটি রূপরেখা। এই মহাপরিকল্পনা যখন বাস্তবে রূপ নেবে, তখন সব ধরনের স্টান্টবাজি ও ক্রেডিট নেওয়ার রাজনীতি চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।
পরিশেষে বলা যায়, উত্তরের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে মঙ্গা কবলিত এলাকাগুলোর কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রসারে যে জোয়ার আসবে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অনন্য নজির হয়ে থাকবে। জামায়াত বা সমমনা দলের এই নেতিবাচক রাজনীতি দেশের উন্নয়নকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। বরং সরকারের এই অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা আরও বেশি জরুরি। উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার পথেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, আর এই যাত্রায় কোনো রাজনৈতিক অপপ্রয়াসই সফল হতে পারবে না—এমনটাই আজ সবার প্রত্যাশা।