জলাবদ্ধতা কাটিয়ে স্বাভাবিক হচ্ছে চট্টগ্রাম, দাবি চসিক মেয়রের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৫ বার
জলাবদ্ধতা কাটিয়ে স্বাভাবিক হচ্ছে চট্টগ্রাম, দাবি চসিক মেয়রের

প্রকাশ: ১০ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলে চট্টগ্রাম মহানগরীতে সৃষ্ট ভয়াবহ জলাবদ্ধতার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। নগরীর বেশিরভাগ নিচু এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করায় জনজীবনে স্বস্তি ফিরছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, নগরীর প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা থেকে পানি সম্পূর্ণ নেমে গেছে। অবশিষ্ট নিচু এলাকাগুলোতে এখনও যে জলাবদ্ধতা রয়েছে, তা দ্রুত নিরসনে সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো দিনরাত নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শুক্রবার দুপুরে নগরের চান্দগাঁও থানার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের সময় মেয়র এই তথ্য জানান।

ডা. শাহাদাত হোসেন শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে হাজীরপোল, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, বালুরটাল, অনন্যা আবাসিক এলাকা ও শমসেরপাড়াসহ বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে তিনি পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। কেবল প্রশাসনিক নির্দেশনায় সীমাবদ্ধ না থেকে মেয়র ও সংসদ সদস্য সরাসরি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। কেন পানি দ্রুত নামছে না এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থায় কী কী প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা তারা স্থানীয় জনগণের কাছ থেকেই শোনেন। এলাকাবাসীর দেওয়া এই মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতে স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা গ্রহণের আশ্বাস দেন মেয়র।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, কিছু এলাকায় পানি জমে থাকার কারণগুলো আমরা চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। কোথাও ময়লা-আবর্জনার স্তূপের কারণে খাল বা ড্রেন বন্ধ হয়ে আছে কি না, কিংবা অপরিকল্পিত নির্মাণের ফলে পানি চলাচলের পথ রুদ্ধ হয়েছে কি না—তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি, অচিরেই অবশিষ্ট এলাকাগুলো থেকেও পানি নেমে যাবে। সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছেন। পানি নিষ্কাশনের পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা পাওয়া মাত্রই তা দ্রুত অপসারণের মাধ্যমে নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ পরিদর্শনকালে ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্বস্ত করে বলেন, এই দুর্যোগময় সময়ে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন জনগণের পাশে রয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে চসিক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এলাকাবাসীর সঙ্গে মিলে সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। নিচু এলাকায় জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যেন খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি সহায়তার অভাবে না ভোগেন, তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সাময়িক এই দুর্ভোগ কাটিয়ে উঠতে এলাকাবাসীর ধৈর্য ও সহযোগিতা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরবাসীর অংশগ্রহণ ও সচেতনতার বিষয়টিতেও মেয়র বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আমরা স্থায়ী সমাধান চাই। এজন্য শহরের খালগুলোকে দখলমুক্ত করা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন। অতীতে অনেক ক্ষেত্রে পরিকল্পনার অভাব ও রক্ষণাবেক্ষণের উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে, যা আজকের এই জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। আমরা এখন এমন একটি কাঠামো দাঁড় করাতে চাই যাতে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরবাসীকে আর এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ ও পরামর্শগুলো আমাদের এই মহাপরিকল্পনা তৈরির ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।

পরিদর্শনকালে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে বৃদ্ধ, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগের কথা শুনে মেয়র ও সংসদ সদস্য আবেগময় হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যেন ত্রাণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হয়। ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বড় কথা নয়, এই বিপদের দিনে প্রতিটি মানুষ আমাদের নাগরিক। তাদের বিপদে পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনার নির্দেশনাও তিনি প্রদান করেন যাতে জলাবদ্ধতার কারণে পানিবাহিত কোনো রোগ ছড়িয়ে না পড়ে।

চট্টগ্রামের এই জলাবদ্ধতা কেবল সাময়িক সমস্যা নয়, এটি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা। তবে মেয়র ও সংসদ সদস্যের এই সক্রিয় পরিদর্শন নগরবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তারা কেবল অফিসে বসে পরিকল্পনা নয়, বরং কোমরে পানি ভেঙে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদের সমস্যা দেখার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা প্রশংসনীয়। পরিদর্শন শেষে মেয়র স্থানীয়দের আশ্বস্ত করেন যে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেশিরভাগ এলাকার পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে। তিনি নগরবাসীকে কোনো ধরনের গুজব না ছড়িয়ে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার আহ্বান জানান।

পরিশেষে বলা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে যাওয়া পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। অবশিষ্ট এলাকাগুলো থেকেও দ্রুত পানি নিষ্কাশনে চসিকের এই বিশেষ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর এই সমন্বিত প্রচেষ্টা সফল হবে এবং শিগগিরই বন্দরনগরী তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে—এটাই এখন সবার প্রত্যাশা। দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়াও একইভাবে দ্রুত ও সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত