সাবেক প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম চৌধুরী আর নেই

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৮ বার
সাবেক প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম চৌধুরী আর নেই

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের রাজনীতির এক পরিচিত মুখ, সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী আর নেই। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগে চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গন, চট্টগ্রামের স্থানীয় জনপদ এবং দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। শেষ পর্যন্ত সোমবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নজরুল ইসলাম চৌধুরী দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় সক্রিয় ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় দলীয় রাজনীতিকে সুসংগঠিত করতে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলা, সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তিনি এলাকায় একজন পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি চট্টগ্রাম-১৪ আসন থেকে তিনবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন বলে স্থানীয়রা উল্লেখ করেন। তাঁর নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি সক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করতেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে শ্রমিক কল্যাণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং শ্রমখাতের বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে কাজ করেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়েও তিনি বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।

তাঁর স্বজনদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চনাবাদ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। জানাজায় রাজনৈতিক সহকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

নজরুল ইসলাম চৌধুরীর ভাগিনা আমিন আহমেদ চৌধুরী রোকন জানিয়েছেন, পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানাজার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি আত্মীয়স্বজন, শুভানুধ্যায়ী এবং স্থানীয় জনগণকে মরহুমের জানাজায় অংশগ্রহণ এবং তাঁর জন্য দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তাঁর মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় তাঁরা মরহুমের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমন এক প্রজন্মের রাজনীতিবিদ ছিলেন, যাঁরা দীর্ঘ সময় মাঠপর্যায়ে সংগঠন পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জনের পর জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড তাঁকে নিজ এলাকায় সুপরিচিত করে তোলে। সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সরকারি নীতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নেও গুরুত্ব দিয়েছেন।

চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেক নেতাকর্মী স্মৃতিচারণ করে জানিয়েছেন, তিনি সহজ-সরল জীবনযাপন এবং মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করতেন। দলীয় কর্মসূচি, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।

তাঁর মৃত্যুতে শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবারের নয়, দীর্ঘদিনের সহকর্মী, সমর্থক এবং শুভানুধ্যায়ীদের মাঝেও শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক জীবনে তাঁর অবদান, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং জনসেবামূলক উদ্যোগের স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন তাঁকে কাছ থেকে চেনা ব্যক্তিরা।

নজরুল ইসলাম চৌধুরীর মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি শূন্যতা তৈরি করেছে। তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ড এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের নানা দিক ভবিষ্যতেও আলোচনায় থাকবে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত। এখন তাঁর পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী প্রার্থনা করছেন, মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দান করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত