এনসিপির মিডিয়া উপ-কমিটি গঠন, নেতৃত্বে সারোয়ার তুষার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৬ বার
এনসিপির মিডিয়া উপ-কমিটি গঠন, নেতৃত্বে সারোয়ার তুষার

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে এবং আধুনিক রাজনৈতিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপ-কমিটি গঠন করেছে। দলটির মিডিয়া, প্রচার ও ব্র্যান্ডিং বিষয়ক উপ-কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন এই কমিটির মাধ্যমে দলটি গণমাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি আরও জোরদার করা, ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিক করা, প্রচার কৌশল সুসংহত করা এবং তথ্যভিত্তিক রাজনৈতিক যোগাযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েছে।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন গঠিত উপ-কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার। তাঁর নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা প্রচার, গণমাধ্যম সমন্বয়, ব্র্যান্ডিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবস্থাপনা, তথ্য যাচাই এবং ডিজিটাল কনটেন্ট উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।

রোববার (১২ জুলাই) রাতে দলের দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেন যৌথভাবে এই উপ-কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রচলিত গণমাধ্যমের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় রেখেই মিডিয়া, প্রচার ও ব্র্যান্ডিং বিষয়ক এই বিশেষ উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির মূল লক্ষ্য হবে দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, নীতিগত অবস্থান এবং সাংগঠনিক বার্তা দ্রুত, সঠিক ও সমন্বিতভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন উপ-কমিটি এনসিপির গণযোগাযোগ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে প্রিন্ট, টেলিভিশন, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের কার্যক্রম সমন্বয়, ব্র্যান্ড পরিচিতি বৃদ্ধি এবং আধুনিক যোগাযোগ কৌশল বাস্তবায়নের দায়িত্বও এই কমিটির ওপর থাকবে।

কমিটিতে প্রচার ও ব্র্যান্ডিং-সংক্রান্ত দায়িত্ব পেয়েছেন তাহসীন রিয়াজ। প্রিন্ট ও ওয়েব মিডিয়া সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছেন জয়নাল আবেদীন শিশির। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার দায়িত্ব পালন করবেন ইয়াসির আরাফাত। নিউ মিডিয়া ও মাল্টিমিডিয়া কার্যক্রমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাহবুব আলমকে।

এ ছাড়া তথ্য যাচাই, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল ইনভেস্টিগেশন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন আবদুল্লাহ আল মামুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবেন শাহাদাত হোসেন। ব্র্যান্ডিং কার্যক্রমে দায়িত্ব পেয়েছেন আবু সুফিয়ান রায়হান। দপ্তর ও আর্কাইভ সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যাবের বিন নূর ঐশি আলম পৃথ্বীকে। এছাড়া কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন সজীব ওয়াফি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য কেবল মাঠের রাজনীতি নয়, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এখন জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোও নিজেদের প্রচার কৌশল আধুনিকায়নের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

এনসিপির নতুন এই উপ-কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে দলটি ডিজিটাল রাজনৈতিক যোগাযোগে আরও সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে তথ্য যাচাই (ফ্যাক্টচেকিং), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং ডিজিটাল অনুসন্ধানকে কমিটির দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত করা বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে নতুন উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দলের নেতাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এবং অপপ্রচার মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। নতুন কমিটির মাধ্যমে এসব বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি জনগণের কাছে দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য পৌঁছে দিতে পেশাদার যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এনসিপি সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে দল পুনর্গঠন এবং বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষায়িত উপ-কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই মিডিয়া, প্রচার ও ব্র্যান্ডিং বিষয়ক উপ-কমিটি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ডিজিটাল যোগাযোগের গুরুত্ব ক্রমাগত বাড়ছে। নির্বাচনী রাজনীতি থেকে শুরু করে দলীয় কর্মসূচি, জনসম্পৃক্ততা এবং নীতিগত অবস্থান তুলে ধরতে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অন্যতম কার্যকর মাধ্যম। তাই নতুন এই উপ-কমিটির কার্যক্রম ভবিষ্যতে এনসিপির সাংগঠনিক প্রচার এবং জনসংযোগে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

দলীয় সূত্র বলছে, নতুন কমিটি খুব শিগগিরই দায়িত্ব গ্রহণ করে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। এর মাধ্যমে দলীয় প্রচার কৌশল আরও আধুনিক, সমন্বিত এবং তথ্যভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে জাতীয় পর্যায়ে এনসিপির রাজনৈতিক বার্তা আরও বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত