মেসিকে থামাতে ইংল্যান্ডকে রুনির কৌশলগত পরামর্শ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৯ বার
মেসিকে থামাতে ইংল্যান্ডকে রুনির কৌশলগত পরামর্শ

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফুটবল বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল ইংল্যান্ড। আটলান্টায় অনুষ্ঠিতব্য এই লড়াইকে ঘিরে ফুটবলবিশ্বে এখন উত্তেজনা তুঙ্গে। একদিকে লিওনেল মেসির অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে জুড বেলিংহাম, হ্যারি কেইন ও বুকায়ো সাকার তারুণ্যনির্ভর ইংল্যান্ড—দুই শক্তিশালী দলের এই লড়াইয়ের আগে কৌশলগত বিশ্লেষণও চলছে জোরেশোরে। সেই আলোচনায় যোগ দিয়ে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ওয়েইন রুনি এমন একটি কৌশলের কথা বলেছেন, যা তাঁর মতে ইংল্যান্ডকে আর্জেন্টিনাকে হারানোর সুযোগ করে দিতে পারে।

বিবিসি স্পোর্টসের এক বিশেষ আলোচনায় রুনি বলেন, আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি যেমন লিওনেল মেসি, তেমনি তাঁর খেলার ধরনেই এমন একটি দিক রয়েছে, যেটিকে প্রতিপক্ষ কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্কও করেছেন যে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সামান্য ভুলও ইংল্যান্ডের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে।

এবারের বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তাঁকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় বলা হয়। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত আটটি গোল করে আর্জেন্টিনাকে সেমিফাইনালে তুলতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন তিনি। বয়সের কারণে আগের মতো পুরো মাঠজুড়ে দৌড়ে বেড়াতে না হলেও কোচ লিওনেল স্কালোনি মেসিকে এমন একটি স্বাধীন ভূমিকা দিয়েছেন, যেখানে তাঁকে মূলত আক্রমণভাগে রাখা হয়। ফলে তিনি শক্তি সঞ্চয় করতে পারেন এবং বল ফিরে পেলেই দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে দলের নেতৃত্ব দিতে পারেন।

রুনির মতে, এই কৌশলই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তির পাশাপাশি একটি সম্ভাব্য দুর্বলতাও তৈরি করে। কারণ মেসি সাধারণত প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে নিচে নেমে রক্ষণে সহায়তা করেন না। তাঁর ভাষায়, “রক্ষণাত্মকভাবে মেসি আর্জেন্টিনার জন্য একটি দুর্বলতা হতে পারে। সে পেছনে দৌড়ায় না। তবে জুড বেলিংহামের মতোই ম্যাচের বড় মুহূর্তগুলোতে সে পার্থক্য গড়ে দেয়। তার মধ্যে এমন গুণ আছে, যা যেকোনো সময় ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে।”

রুনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, মেসির সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর অসাধারণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। ম্যাচের পুরো সময় হয়তো তিনি খুব বেশি চোখে পড়বেন না, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নেন, যা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে মুহূর্তেই ভেঙে দিতে পারে। তাঁর মতে, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও মেসি ঠিক এমনই একটি পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন।

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মনে করেন, মেসিকে থামানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পুরো ম্যাচজুড়ে সর্বোচ্চ মনোযোগ ধরে রাখা এবং রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখা। তিনি বলেন, মেসিকে মার্ক করা শুধু একজন ডিফেন্ডারের দায়িত্ব নয়; বরং পুরো দলের সমন্বিত দায়িত্ব। কারণ মেসি এমন সব জায়গায় চলে যান, যেখানে প্রচলিত ডিফেন্ডাররা সাধারণত অবস্থান করেন না। তাই মিডফিল্ডার ও ডিফেন্ডারদের মধ্যে যোগাযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

রুনি আরও একটি কৌশলগত পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, যেহেতু মেসি নিয়মিত রক্ষণে নামেন না, তাই ইংল্যান্ড চাইলে তাঁর পাশের ফাঁকা জায়গাটি কাজে লাগাতে পারে। একজন মিডফিল্ডারকে একটু ওপরে তুলে সেই দিক দিয়ে আক্রমণ চালালে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। এতে আর্জেন্টিনার ডিফেন্সকে আরও বেশি জায়গা কভার করতে হবে এবং ইংল্যান্ড আক্রমণে সংখ্যাগত সুবিধা পেতে পারে।

তবে এই পরিকল্পনার সঙ্গে বড় ধরনের ঝুঁকির কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন রুনি। তিনি বলেন, যদি ইংল্যান্ড ওপরে উঠে আক্রমণ করতে গিয়ে বল হারিয়ে ফেলে, তাহলে রক্ষণভাগের সামনে বিশাল ফাঁকা জায়গা তৈরি হবে। আর সেই জায়গায় যদি বল পেয়ে যান লিওনেল মেসি, তাহলে একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারবেন তিনি। কারণ কাউন্টার অ্যাটাকে মেসির সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পাসিং এবং গোল করার দক্ষতা এখনও বিশ্বের সেরাদের অন্যতম।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সেমিফাইনালে দুই দলের কৌশলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল সাধারণত ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল পছন্দ করেন। তিনি একদিকে শক্তিশালী রক্ষণ বজায় রাখেন, অন্যদিকে দ্রুত আক্রমণে ওঠার কৌশল ব্যবহার করেন। অন্যদিকে লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা বল দখলে রাখার পাশাপাশি সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে যাওয়ার জন্য পরিচিত।

এই ম্যাচে ব্যক্তিগত দ্বৈরথও থাকবে আলোচনার কেন্দ্রে। একদিকে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি, অন্যদিকে ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা জুড বেলিংহাম। পাশাপাশি হ্যারি কেইনের অভিজ্ঞতা এবং বুকায়ো সাকার গতি ইংল্যান্ডকে বাড়তি শক্তি দেবে। অন্যদিকে মেসিকে ঘিরে গড়ে ওঠা আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগও প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

ফুটবলবিশ্বের অনেকেই এই সেমিফাইনালকে আগাম ফাইনাল হিসেবে দেখছেন। কারণ দুই দলই এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। ফলে সামান্য কৌশলগত ভুল কিংবা একটি মুহূর্তের জাদুকরী পারফরম্যান্সই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দিতে পারে।

ওয়েইন রুনির বিশ্লেষণও সেই বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করছে। তাঁর মতে, মেসির রক্ষণাত্মক সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগানো সম্ভব হলেও তাঁকে কখনোই অবহেলা করার সুযোগ নেই। কারণ ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকারা অনেক সময় মাত্র একটি মুহূর্তেই পুরো ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন, আর লিওনেল মেসি সেই বিরল খেলোয়াড়দেরই একজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত