প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশজুড়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬ উপলক্ষে লোগো, রিলস, মাসকট, স্লোগান ও থিম সং তৈরির আহ্বান জানিয়েছে অধিদপ্তর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব সৃজনশীল উপকরণ ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠাতে বলা হয়েছে। নির্বাচিত সেরা কাজের নির্মাতাদের প্রধানমন্ত্রী পুরস্কৃত করবেন বলেও জানানো হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের শারীরিক শিক্ষা বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতাকে আরও আকর্ষণীয় ও অংশগ্রহণমূলক করে তুলতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিজস্ব সৃষ্টিশীল কাজ জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা এই কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। অংশগ্রহণকারীদের আগামী ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে তাঁদের তৈরি লোগো, রিলস, মাসকট, স্লোগান ও থিম সং নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে হবে। লোগো অবশ্যই পিএনজি, জেপিজি অথবা জেপিইজি ফরম্যাটে পাঠাতে হবে। যারা রিলস তৈরি করবেন, তাঁদের সংশ্লিষ্ট ভিডিওর লিংক ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাউশির বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রিলসের বিষয়বস্তু অবশ্যই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ফুটবল খেলার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে হবে। থিম সং ওয়ার্ড এবং পিডিএফ—উভয় ফরম্যাটে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি মাসকট ও স্লোগানও ই-মেইলে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জমাদানের সঙ্গে অবশ্যই একটি সচল মোবাইল নম্বর এবং যোগাযোগের ঠিকানা যুক্ত করতে হবে, যাতে প্রয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করা যায়।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, ইতোমধ্যে যারা লোগো, রিলস কিংবা থিম সং জমা দিয়েছেন, তাঁদের পুনরায় একই উপকরণ পাঠানোর প্রয়োজন নেই। নতুন করে জমা দেওয়ার আহ্বান শুধুমাত্র তাঁদের জন্য, যারা এখনও অংশগ্রহণ করেননি অথবা অন্য বিভাগে নতুন কোনো সৃজনশীল কাজ জমা দিতে চান।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খেলাধুলার পাশাপাশি সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শুধু মাঠের খেলাই নয়, বরং ডিজিটাল কনটেন্ট, নকশা, সংগীত ও সৃজনশীল চিন্তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও ফুটবলভিত্তিক ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে উঠবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বাড়ানো অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। রিলস তৈরি, লোগো ডিজাইন, থিম সং রচনা কিংবা মাসকট নির্মাণের মতো কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীলতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং দলগতভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে। এ ধরনের প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতে তাদের বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও সহায়ক হতে পারে।
প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা দেশের স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া আয়োজন। প্রতিবছর এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিভাবান ফুটবলারদের খুঁজে বের করার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এবার সেই আয়োজনের সঙ্গে সৃজনশীল প্রতিযোগিতা যুক্ত হওয়ায় অংশগ্রহণের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাউশি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিযোগিতায় জমা পড়া সব কাজ নির্ধারিত কমিটি মূল্যায়ন করবে। সৃজনশীলতা, মৌলিকত্ব, উপস্থাপনা এবং প্রতিযোগিতার ভাবধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিবেচনা করে বিজয়ী নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিত সেরা লোগো, মাসকট, থিম সং, স্লোগান ও রিলস ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের প্রচারণায় ব্যবহারের সুযোগও পেতে পারে।
শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা আশা করছেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। এতে একদিকে যেমন জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতার প্রতি আগ্রহ বাড়বে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের নতুন ক্ষেত্রও তৈরি হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি, সংস্কৃতি এবং খেলাধুলার সমন্বয়ে একটি ইতিবাচক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও উদ্ভাবনী ও অংশগ্রহণমূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করবে।