প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনের মাঝেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চের প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনা ঘটে।
হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের মধ্যে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে অসুস্থতার সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা পরে তাকে কোথায় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, লং মার্চের প্রস্তুতি নিয়ে অনুষ্ঠিত ব্রিফিং চলাকালেই হামিদুর রহমান আযাদ অসুস্থ হয়ে পড়েন। একই দিনে এর আগে তিনি একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যও দিয়েছিলেন।
শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করা হয়েছিল ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লং মার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতি তুলে ধরার জন্য। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে জোটের নেতারা সাংগঠনিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি একই সঙ্গে লং মার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের এই লং মার্চের প্রধান লক্ষ্য সরকার উৎখাত করা নয়। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যেই কর্মসূচিটি নেওয়া হয়েছে।
এর আগে একই দিন হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, তাদের আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়। বরং দেশের মানুষ এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তারা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছেন।
তিনি বলেন, সরকারে যে দলই থাকুক না কেন, জনগণের মৌলিক অধিকার, জানমালের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। বর্তমান সরকার এসব ক্ষেত্রে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন জামায়াতের এই নেতা।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অংশ হিসেবে তারা সংসদ এবং রাজপথ—দুই জায়গাতেই রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের পাশাপাশি জনগণের দাবি নিয়ে রাজপথেও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে মূলত আগামীকালের লং মার্চকে কেন্দ্র করে বিস্তারিত প্রস্তুতির বিষয়টি সামনে আসে। জোটের নেতাদের দাবি, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত দীর্ঘ এই কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেবেন এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, লং মার্চে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে কর্মসূচির উদ্বোধনের পর গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করবে। পথিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও বক্তব্যের আয়োজন থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লং মার্চে অংশগ্রহণকারী গাড়িগুলোর জন্য পৃথক স্টিকার, নম্বর এবং ডেলিগেট কার্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গাড়িবহরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দিষ্ট পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বহরে মেডিকেল টিম, অ্যাম্বুলেন্স, কার্ডিয়াক অ্যাম্বুলেন্স, সাংস্কৃতিক দলের গাড়ি এবং তথ্যপ্রযুক্তি টিম থাকার কথা জানিয়েছেন আয়োজকরা। আইটি টিমের মাধ্যমে কর্মসূচির বিভিন্ন অংশ সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রতি লং মার্চের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলেন, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং নিয়মতান্ত্রিক হবে। তাই নির্বিঘ্নে কর্মসূচি পালনে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তারা।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি গণতান্ত্রিক রাজনীতির একটি স্বাভাবিক অংশ। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশে ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা এবং বিরোধী দলের কর্মসূচি পালনের সুযোগ কতটা নিশ্চিত হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হামিদুর রহমান আযাদের হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার ঘটনাটি এমন সময় ঘটল যখন আগামীকালের কর্মসূচিকে ঘিরে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তার উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক বক্তব্য জোটের কর্মসূচিতে তার সক্রিয় ভূমিকার বিষয়টিও সামনে এনেছিল।
হামিদুর রহমান আযাদ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং দলটির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের একজন। তিনি অতীতে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও দল ও জোটের পক্ষে নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে আসছেন।
তার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য, চিকিৎসকদের মতামত কিংবা তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
এ কারণে তার অসুস্থতার কারণ নিয়ে কোনো ধরনের অনুমান বা অপ্রমাণিত তথ্য প্রকাশ করা সমীচীন নয়। সংশ্লিষ্ট পরিবার, দল অথবা চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য জানানো হলে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বড় রাজনৈতিক কর্মসূচির আগে নেতাদের সংবাদ সম্মেলন এবং সাংগঠনিক ব্যস্ততা সাধারণত বেড়ে যায়। তবে হামিদুর রহমান আযাদের অসুস্থতার সঙ্গে কোনো বিশেষ কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তাদের কর্মসূচির মাধ্যমে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জনগণের বিভিন্ন দাবি সামনে তুলে ধরা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
জোটের নেতারা বলছেন, এসব দাবি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণের দৈনন্দিন সমস্যা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রশ্ন থেকেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে লং মার্চ এবং উত্থাপিত দাবিগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।
এখন সবার নজর হামিদুর রহমান আযাদের শারীরিক অবস্থার পরবর্তী আপডেটের দিকে। দল বা পরিবারের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা এবং বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য জানানো হলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
একই সঙ্গে শনিবারের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয় কি না এবং এতে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণ কেমন থাকে, সেটিও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।